পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: গতকাল স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। শুধু তাই নয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা কর্মী কলকাতার একাধিক স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যায় বিজেপির প্রার্থী সমর্থকরাও। যা ঘিরে কিছুটা উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে উত্তর দিতে রাত্রি ১১টাই সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল। এরপরেই লালবাজারের তরফে কড়া নির্দেশিকা জারি করা নির্দেশিকা জারি করা হয়।

এরইমধ্যে স্ট্রংরুমের সিসিটিভি বিভ্রাট ও কমিশনের নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে (সিইও অফিস) স্মারকলিপি জামা দিল রাজ্যের দুই মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম ও শশী পাঁজা। 

এ দিন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সাফ জানান, ‘মানুষ যা মত দিয়েছে সেটা রক্ষা করা যেমন কমিশনের কাজ, তেমনই আমাদেরও দায়িত্ব। কমিশনকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হত।‘ সংঘাতের পথে না হাঁটলেও কমিশনের কাজে যে তাঁরা বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নন, তা স্পষ্ট করে দেন মেয়র। তাঁর কটাক্ষ, ‘বিজেপি আজ যা বলে, কমিশন কাল তাই করে।‘ 

অন্যদিকে শশী পাঁজা একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন দেন, ‘হরিপাল, জলপাইগুড়ি, গাইঘাটা, সাগরদিঘি থেকে ঘাটাল- বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা মাঝে মাঝেই অফ হয়ে যাচ্ছে।

এতেই সন্দেহ জাগছে ভেতরে কিছু হচ্ছে কি না।‘ তৃণমূলের অভিযোগ, আউসগ্রাম, আরামবাগ, নলহাটি, বালুরঘাট, ইসলামপুর এবং কসবায়ও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমনকি গতকাল প্রায় ১৩ ঘণ্টা কোনও ফুটেজ দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শশী পাঁজা বলেন, "আমরা মেইল করেছিলাম কিন্তু উত্তর আসেনি। হয়তো উনি খুব ব্যস্ত। আমাদের পুরো রেকর্ডিং দরকার।

কয়েক সেকেন্ড বাদ চলে গেছে এমন এডিট করা ফুটেজ আমরা মানব না।" রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্ধকারে রেখে কেন স্ট্রং রুমের দরজা খোলা হচ্ছে, তা নিয়েও সরব হন তিনি। মহারাষ্ট্র বা দিল্লির উদাহরণ টেনে ট্যাম্পারিংয়ের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। 
রিপোল বা পুনর্নির্বাচন নিয়েও সরব হয়েছে তৃণমূল। তাঁদের দাবি, কমিশন যেখানে মনে করছে সেখানেই রিপোল দিচ্ছে। বিজেপি ভোটের দিন পরিকল্পনা করেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যাতে আরও বেশি জায়গায় পুনর্নির্বাচন করানো যায়।

সব মিলিয়ে গণনা যত এগিয়ে আসছে, স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা আর কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শাসক-কমিশন দ্বন্দ্ব ততই তুঙ্গে উঠছে। এখন দেখার, তৃণমূলের এই একগুচ্ছ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পাল্টা কী সাফাই দেয়।