উত্তরপ্রদেশের কৌসম্বি জেলার একটি সরকারি স্বশাসিত হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় ২২ বছর বয়সী এক নারী রোগীর মুখ ও ব্যক্তিগত অঙ্গের আপত্তিকর ছবি তোলা এবং তা হয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই ছবিগুলি কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট হয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসে রাজ্য মহিলা কমিশনের এক সদস্যের হস্তক্ষেপের পর, যার ফলে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জেলার পুলিশ সুপার সত্যনারায়ণ প্রজাপত ঘটনাটিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে তদন্তের দায়িত্ব ডিএসপি শিবাঙ্ক সিংহ-র হাতে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী ২৬ এপ্রিল গাইনোকোলজি বিভাগে ভর্তি হন এবং বারথোলিন সিস্টের অস্ত্রোপচার করা হয়। এই অস্ত্রোপচারটি সিনিয়র চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল।
তবে অস্ত্রোপচারের সময় তোলা ছবিগুলি প্রকাশ্যে চলে আসার পরই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ছবিতে রোগীর মুখ ও ব্যক্তিগত অংশ দেখা যাওয়ায় গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং চিকিৎসা নীতির গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসে। এ নিয়ে মহিলা সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।


রাজ্য মহিলা কমিশনের সদস্য প্রতিভা কুশওয়াহা পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে—কে ছবি তুলেছিল, অপারেশন থিয়েটারে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কীভাবে ছবিগুলি বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ঘটনাটিকে “বড় ধরনের ভুল” বলে স্বীকার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাকি এই ছবিগুলি একটি অফিসিয়াল গ্রুপে শেয়ার করেছিলেন, যা পরে অন্য একটি সরকারি গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্রুপগুলিতে জেলা তথ্য আধিকারিক, অধ্যক্ষ, চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ছবিগুলি মুছে ফেলা হয়।