ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হলেও রাজনৈতিক মহলে এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু ফলাফল। বুথভিত্তিক অঙ্ক কষে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরই। এখন সবার নজর ৪ তারিখের দিকে।
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের গণনাকেন্দ্রগুলোতে  প্রার্থীদের তৎপরতা তুঙ্গে। ১ মে, ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রার্থীরা দিনভর ভোটের হিসাব মেলাচ্ছেন এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। প্রার্থীরা বা তাদের কাউন্টিং এজেন্টরা স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থান করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। দলগুলো নিজ নিজ এজেন্টদের সতর্ক থাকতে বলেছে এবং গণনার দিনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। টানা প্রায় দেড় মাসের নির্বাচনি উত্তাপ, সভা-মিছিল, প্রচার। যুদ্ধ শেষে শুক্রবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন  জেলার বিভিন্ন বিধানসভার প্রার্থীরা। তবে বিশ্রামের আবহ থাকলেও রাজনৈতিক ব্যস্ততা ছিল তাঁদের মধ্যে।

কেউ বুথভিত্তিক ভোটের অঙ্ক কষছেন, কেউ স্ক্রুটিনিতে অংশ নিয়েছেন, আবার কেউ দলীয় কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনি কার্যালয়ে কাটিয়েছেন। পাশাপাশি, গণনাকেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্ট ঠিক করা, তাঁদেজর মনোবল বাড়ানো নিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ত আছেন  প্রার্থীরা। 
পলাশীপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা চাপড়ার বিদায়ী বিধায়ক রুকবানুর রহমান  কলকাতায় । কলকাতায় থাকলেও এলাকায় ভোট পরিস্থিতির উপর নজর ছিল তাঁর। তিনি বলেন, ‘গত দেড় মাস ধরে নির্বাচনের জন্য একটানা ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগই পাইনি।  কলকাতায় এসেছি। এবার বাড়ি ফিরে একটু বিশ্রাম নেব।’ কালীগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদের দিন কেটেছে বুথভিত্তিক ভোটের হিসেব কষে। বুথ এজেন্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফর্ম সংগ্রহ করে ভোটের পর্যালোচনা শুরু করেন তিনি।
বুথভিত্তিক রিপোর্ট হাতে পেয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তিনি। আলিফা বলেন, ‘মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। বুথ ধরে হিসেব-নিকেষ চলছে। খুব ভালো ফল হবে বলেই আমরা আশাবাদী।’ 
চাপড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী জেবের শেখ অবশ্য দিনভর নিজের নির্বাচনী কার্যালয়েই ছিলেন। সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা ও ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। 
তবে  রাজনৈতিক  মহলের  মতে,  চাপড়ায়  আইএস এফ  জেবেরের  অনেক  ভোট  কেটে  নেবে ।চাপড়া কেন্দ্রে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএস এফ ) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে, এমনটা রাজনৈতিক মহলের মতে।চাপড়ায় আইএস এফ -এর প্রভাব কেন বেশি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আইএস এফ  সংখ্যালঘু ভোট এবং তৃণমূলের অখুশি ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে পারে, যা মূলত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত।
এপ্রিল মাসের শেষের দিকে (দ্বিতীয় দফার ভোটিং) চাপড়ার হাতিশালা ২ অঞ্চলের হাঁটরা গ্রামে তৃণমূলের প্রচার ও আইএস এফ  কর্মীদের মধ্যে বাধা দেওয়া, এমনকি গুলিবর্ষণের অভিযোগ ও হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে যে, এখানে ভোটের লড়াইটি বেশ হাড্ডাহাড্ডি। যদিও বামফ্রন্ট এবং Iআইএস এফ -এর মধ্যে আসন সমঝোতা হয়েছে এবং নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আইএস এফ  ৩০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে, তবুও স্থানীয়স্তরে আইএসএফ-এর উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তা তৃণমূলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ, যারা শাসকদল বা বিরোধী বিজেপির প্রতি অসন্তুষ্ট, তারা বিকল্প হিসেবে আইএস এফ -এর দিকে  ঝুঁকেছে   ।, চাপড়াতে Iআইএস এফ -এর উপস্থিতি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক থেকে বেশ কিছু ভোট কেটে নিয়ে লড়াইকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী জেবের শেখ দাবি করেছেন যে তিনি ৬০ থেকে ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন । তাঁর সমর্থকদের মতে, এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে মানুষ তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছে ।  
এদিকে ভোটের দুদিন পরেও যথেষ্ট সক্রিয় দেখা যায় নাকাশিপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল খাঁকে। এদিন তাঁকে স্ট্রংরুমে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দেখা যায়। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, ‘আমরা চতুর্থবার সরকার গঠন করতে চলেছি। নাকাশিপাড়ায় তৃণমূলের গড় অক্ষুণ্ণ থাকবে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, সেটাই দেখতে এসেছিলাম।’ হরিণঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নিজেই স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে যান।