তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন এবং সাংগঠনিক সংকটের আবহে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস থেকে জন্ম নেওয়া তৃণমূল কংগ্রেস কি শেষ পর্যন্ত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ফের কংগ্রেসের সঙ্গেই একীভূত হতে পারে? কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠক সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিয়েছে।
মঙ্গলবার প্রায় ৪০ মিনিট ধরে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপর বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরপর এই বৈঠক ঘিরেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

যদিও তৃণমূল এবং কংগ্রেস— দুই পক্ষই দল একীভূত হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের এক নেতা দাবি করেছেন, দল মিশে যাওয়ার খবর ভিত্তিহীন।

তবে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের স্বার্থে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষই আগ্রহী। অন্যদিকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও সমাজমাধ্যমে এই ধরনের জল্পনাকে ‘গুজব’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভিত দুর্বল হওয়া, বিধায়ক ও সাংসদদের একাংশের বিদ্রোহ এবং সাংগঠনিক ভাঙনের আবহে দলকে টিকিয়ে রাখার জন্য কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। যদিও আসন সমঝোতা বা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রসায়ন নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট সমীকরণ সামনে আসেনি।

এদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবির নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, মমতা বা অভিষেকের দিল্লির বৈঠক নিয়ে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

সূত্রের খবর, সনিয়া গান্ধীও এই মুহূর্তে তৃণমূলকে কংগ্রেসে মিশিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এবং জনঅসন্তোষের বিষয়টিও কংগ্রেস নেতৃত্ব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিস্তারিত আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে প্রকাশ্যে দুই দলই জল্পনা উড়িয়ে দিলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধীর বৈঠক ঘিরে তৃণমূল-কংগ্রেস সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থামছে না। আগামী দিনে এই সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশের রাজনৈতিক মহলের।