তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের ধারা এবার আরও স্পষ্ট হল রাজ্যসভাতেও। সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের পর এবার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক। দলীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই তিনি নিজের পদত্যাগপত্র রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছেন।

এর ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে দাঁড়াল ১০-এ। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, চলতি সপ্তাহেই আরও এক সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন।

এমনকী, মাস শেষ হওয়ার আগেই পাঁচ থেকে ছয় জন রাজ্যসভার সদস্য পদ ছাড়তে পারেন বলেও সূত্রের দাবি।

বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের সুর তীব্র হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলের একাংশ ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে। ওই শিবিরের দাবি, তাদের সঙ্গে রয়েছেন ৬৪ জন বিধায়ক।
লোকসভাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একাধিক তৃণমূল সাংসদ একজোট হয়ে এনডিএ শিবিরে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজ্যসভায় অবশ্য ভাঙনের কৌশল কিছুটা আলাদা। একসঙ্গে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদকে নিয়ে দল ভাঙার পরিবর্তে একে একে পদত্যাগের পথ বেছে নিচ্ছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। প্রথমে সুখেন্দুশেখর রায়, তারপর সুস্মিতা দেব এবং এবার প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগ সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিল।

দলীয় সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনে আরও কয়েকজন রাজ্যসভার সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন। ফলে সংসদের উচ্চকক্ষেও তৃণমূলের শক্তি আরও কমতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।