পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেস নেতা পবন খেরার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের মামলায় খেরাকে আগাম জামিন দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ফৌজদারি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা অনুচিত। প্রসঙ্গত, গুয়াহাটি হাইকোর্টের রায় খারিজ করে শীর্ষ আদালত পবন খেরাকে আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে। বিচারপতি জে. কে. মহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ. এস. চান্দুরকরের বেঞ্চ এই মামলায় পর্যবেক্ষণ করে জানায়, অভিযোগগুলি প্রাথমিকভাবে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আদালত তার রায়ে জানায়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার।
কোনো মামলার প্রেক্ষাপটে যদি রাজনৈতিক রেষারেষির ইঙ্গিত থাকে, তবে কাউকে হেফাজতে নেওয়ার আগে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বেঞ্চের মতে, "তদন্তের স্বার্থ এবং ব্যক্তির মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে যাতে কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।"আরও পড়ুন:
পবন খেরাকে জামিন দিলেও আদালত কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং সমন পাঠালে হাজিরা দিতে হবে।
তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা যাবে না। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। উল্লেখ্য, এর আগে গুয়াহাটি হাইকোর্ট পবন খেরার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। হাইকোর্ট তাকে 'পলাতক' হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছিল, যেহেতু মন্তব্যগুলি মুখ্যমন্ত্রীর বদলে একজন ব্যক্তিগত সত্তার (তাঁর স্ত্রী) বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তাই এটি কেবল 'রাজনৈতিক ভাষণ' হিসেবে গণ্য করা যায় না। সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে খেরাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করল।