পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কয়লা পাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত অনুপ মাজির আগাম জামিন বাতিলের আর্জি শুনত রাজি হলো সুপ্রিম কোর্ট। তবে মঙ্গলবার শুনানির সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন বিচারপতিরা। গত ছয় মাস ধরে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার ব্যাপারে এজেন্সির গাফিলতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ অনুপ মাজি ওরফে লালাকে নোটিশ জারি করে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে।
বেআইনি কয়লা এবং অর্থ পাচারের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে তার নাম জড়িয়েছে।আরও পড়ুন:
এদিন ইডি-র পক্ষে সওয়াল করেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু। তিনি দাবি করেন, অনুপ মাজি হলেন কয়লা পাচার মামলায় ২,৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতির পাণ্ডা বা ‘কিংপিন’। দিল্লি হাইকোর্ট ২০২৫ সালের জুন মাসে অনুপকে যে আগাম জামিন দিয়েছিল, তাকেই চ্যালেঞ্জ করেছে ইডি।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, “ও (অনুপ মাজি) যখন সিবিআই-এর হেফাজতে ছিল, তখন কেন ইডি তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার তোড়জোড় করেনি? গত ছয় মাস ধরে আপনারা এই বিষয়ে যথেষ্ট সিরিয়াস ছিলেন না কেন?” জবাবে এস ভি রাজু দাবি করেন, অনুপ মাজি দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন। তবে আদালত থেকে সুরক্ষাকবচ পাওয়ার পর তিনি তদন্তে সহযোগিতা শুরু করেছেন।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, অনুপ মাজির পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে জানান, তার মক্কেল ইতিমধ্যেই ২৩ বার কেন্দ্রীয় এজেন্সির সামনে হাজিরা দিয়েছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। দিল্লি হাইকোর্টেও একই যুক্তিতে জানানো হয়েছিল, অনুপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর কোনো প্রয়োজন নেই। শীর্ষ আদালত প্রথমে জামিন বাতিলের আরজির পরিবর্তে দ্রুত বিচারের নির্দেশ দেওয়ার দিকে ঝুঁকলেও, শেষ পর্যন্ত ইডি-র আর্জি শুনতে রাজি হয় এবং অনুপ মাজিকে নোটিশ পাঠায়।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এই মামলার সূত্র ধরেই চলতি বছর জানুয়ারি মাসে কলকাতায় আই-প্যাক-এর অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। সেই তল্লাশি চলাকালীন এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, ততকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশির মাঝেই ওই দপ্তরে ঢুকে পড়েছিলেন এবং ইডি আধিকারিকদের হাত থেকে বেশ কিছু নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জোরপূর্বক সরিয়ে নিয়েছিলেন।