পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সিবিআই-এর পরবর্তী অধিকর্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানীর রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের নির্বাচক কমিটির বৈঠকে এই প্রক্রিয়াকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে কড়া ‘ডিসেন্ট নোট’ বা ভিন্নমত পোষণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। তাঁর সাফ কথা, এই নির্বাচনে বিরোধী দলনেতাকে কেবল একটি ‘রবার স্ট্যাম্প’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে সরকার, যা তিনি মেনে নেবেন না।
আরও পড়ুন:
লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং রাহুল গান্ধি।
দুই পাতার দীর্ঘ ভিন্নমত পোষণকারী নোটে রাহুল গান্ধি অভিযোগ করেছেন, সরকার এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একটি প্রহসনে পরিণত করেছে। তিনি লেখেন, “নির্বাচক কমিটিকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না দিয়ে সরকার একে নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতায় নামিয়ে এনেছে। বিরোধী দলনেতা কোনও রবার স্ট্যাম্প নন। এই পক্ষপাতদুষ্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে আমি আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হতে পারি না।”আরও পড়ুন:
রাহুল গান্ধির প্রধান অভিযোগ হলো, যোগ্য প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য তাঁকে আগে থেকে দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, একাধিকবার লিখিত অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও তাঁকে প্রার্থীদের ‘সেলফ-অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্ট’ বা ‘৩৬০-ডিগ্রি রিপোর্ট’ দেওয়া হয়নি। বৈঠকের টেবিলে বসিয়ে প্রথমবারের জন্য ৬৯ জন প্রার্থীর নথিপত্র দেখতে বলা হয়েছে। ৩৬০-ডিগ্রি রিপোর্ট সরাসরি দিতে অস্বীকার করেছে সরকার।
রাহুলের মতে, কোনও প্রার্থীর পূর্ব ইতিহাস এবং কাজের মূল্যায়ন করার জন্য এই নথিগুলি অত্যন্ত জরুরি। তথ্য গোপন করে সরকার আসলে নিজেদের ‘পছন্দের প্রার্থী’র নাম আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।আরও পড়ুন:
সিবিআই-এর মতো প্রিমিয়ার এজেন্সিকে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও তোপ দাগেন রাহুল। তাঁর নোটে উল্লেখ রয়েছে যে, বিরোধী নেতা, সাংবাদিক এবং সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করতেই সিবিআই-কে অপব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানকে এই ‘দখল’ থেকে বাঁচাতেই নির্বাচক কমিটিতে বিরোধী দলনেতাকে রাখা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আপনি আমাকে এই প্রক্রিয়ায় কোনও অর্থবহ ভূমিকা পালন করতে দিচ্ছেন না।”