মিয়ানমারের কারাবন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চি-কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং-এর বিবৃতির বরাতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

জান্তা সরকারের দাবি, সু চি তার বাকি সাজা ‘নির্ধারিত বাসস্থানে’ কাটানোর অনুমতি পেয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাঁর একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দুই সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তাকে দেখা যাচ্ছে।
তবে এই দাবিতে আস্থা রাখতে পারছেন না সু চির ছেলে কিম অ্যারিস।

তিনি জানিয়েছেন, তার মা আদৌ জীবিত আছেন কি না, সে সম্পর্কেও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তার কাছে নেই। প্রকাশিত ছবিটিকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে দাবি করে জানান, সেটি ২০২২ সালের পুরনো ছবি।

কিম অ্যারিস বলেন, “যতক্ষণ না আমি সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারছি বা কেউ স্বাধীনভাবে তাঁর অবস্থার সত্যতা যাচাই করছে, ততক্ষণ আমি কিছুই বিশ্বাস করতে পারছি না।”

এর আগে সু চির আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তাঁর সাজার মেয়াদ আংশিক কমানো হয়েছে। তবে গৃহবন্দী অবস্থায় বাকি সাজা ভোগের বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও জানান তারা।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই সু চিকে কার্যত জনসম্মুখ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, পরিবারের সঙ্গেও দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন মিন অং হ্লাইং। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ ওই শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।