কল্যান মন্ডল: বহু বছরের অশান্তির ইতিহাস ভেঙে এবার ভাঙড়ে দেখা গেল একেবারে ভিন্ন ছবি। শেষ কবে এমন শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, তা অনেকেরই মনে করতে কষ্ট হচ্ছে। ভোটের দিন সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে ভোট দিয়েছেন মানুষ। বুথে বসে সব দলের এজেন্ট, কোথাও উত্তেজনা বা অশান্তির চিহ্ন নেই—এই বিরল দৃশ্যই ধরা পড়েছে ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বের বিভিন্ন এলাকায়। ফলে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন।


যে এলাকায় এতদিন ভোট মানেই ছিল বোমা, গুলি ও রক্তপাত, সেই ভাঙড়েই এদিন কার্যত কোনও বড় অশান্তি ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক ভোটার নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে খুশি। দ্বিতীয় দফার ভোটে কোথাও মারধর, মাথা ফাটানো বা গুরুতর সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠেনি। এমনকি বুথ দখল, রিগিং বা ছাপ্পা ভোটের মতো অভিযোগও শোনা যায়নি।
এই শান্তিপূর্ণ ভোটের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার।
ভোটের আগের রাত থেকেই ভাঙড়ের বিভিন্ন থানা এলাকায় চলে ব্যাপক ধরপাকড় ও তল্লাশি অভিযান। দুষ্কৃতীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬০ জন দাগি আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা না হয়।
ভোটের দিনও নজরদারিতে কোনও খামতি রাখা হয়নি। ড্রোনের মাধ্যমে বুথ ও আশপাশের এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হয়।
পাশাপাশি মোটরবাইক কুইক রেসপন্স টিম দিনভর গ্রাম থেকে মেঠো রাস্তা—সব জায়গায় টহল দেয়। ফলে বুথের আশপাশে তো বটেই, দূরবর্তী এলাকাতেও কোনও বেআইনি জমায়েত বা ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেনি।
শান্তিপূর্ণ ভোটে খুশি সাধারণ মানুষ। অনেকের মতে, পুলিশের এই কঠোর নজরদারির কারণেই দুষ্কৃতীরা কোনওরকম অশান্তি করার সাহস পায়নি। অন্যদিকে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সবমিলিয়ে বহুদিন পর ভাঙড়ে শান্তির ভোট নতুন বার্তা দিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।