ভোট দিতে গিয়েই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
বুধবার বিকেলে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, দিনভর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে, এমনকি বহু জায়গায় এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন,
“এটা কি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন? জীবনে এমন ভোট দেখিনি।”
আরও পড়ুন:
তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগের রাত থেকেই একাধিক জেলায় তৃণমূলের কর্মীদের ভয় দেখানো, গ্রেফতার এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নদিয়া, আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট ও ক্যানিংয়ে দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মমতা বলেন,
“কাল রাত থেকে আমাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিজের বুথের বাইরে দাঁড়িয়েও তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বুথে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, রাজ্য পুলিশের উপস্থিতি নেই, ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে ‘দখলদারি’ চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন,
“দেখুন, এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্য পুলিশ নেই।
আরও পড়ুন:
তবে এত অভিযোগের মাঝেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মমতা। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় আঙুলে ‘ভিক্টরি’ চিহ্ন দেখিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তৃণমূলই জিতবে।
আরও পড়ুন:
দৃঢ় সুরে তিনি বলেন,
“সব কিছু সত্ত্বেও তৃণমূলই জিতবে। আমরা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরব।”
আরও পড়ুন:
ভোটের দিন সকাল থেকেই সক্রিয় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে তিনি চেতলায় যান, সেখানে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভোটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
এরপর চক্রবেড়িয়ায় গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং কয়েকটি বুথের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।আরও পড়ুন:
সকালেই তিনি জানিয়েছিলেন,
“আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে রাস্তায় থাকব।”
আরও পড়ুন:
দিনভর তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং বাইরে থেকে আসা পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আরও পড়ুন:
তাঁর অভিযোগ,
“বাইরে থেকে অনেক পুলিশ অফিসার আনা হয়েছে, যারা বাংলাকে বোঝে না। গতকাল রাত থেকেই অত্যাচার চালানো হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্রের লড়াই এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে মুখোমুখি হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ফলে সকাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। শুভেন্দুও বিভিন্ন বুথ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
আরও পড়ুন:
এই আবহে মমতার প্রকাশ্য অভিযোগ ভোটের দিন রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। তবে অভিযোগ-প্রতিআভিযোগের মাঝেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, চাপ বা ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে হারানো যাবে না, বরং জয়ের ব্যাপারে তিনি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী।