থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা আগামী মাসে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্যারোল কমিটি তার আগাম মুক্তির অনুমোদন দিয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে থাই কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১১ মে ৭৬ বছর বয়সী থাকসিনকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে মুক্তির পরও তাকে কিছু শর্ত মানতে হবে। প্রবেশন মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস পরতে হবে এবং প্রশাসনের নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

কারা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বয়স এবং সাজা শেষ হতে এক বছরের কম সময় বাকি থাকায় তাকে আগাম মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন থাকসিন, যা তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করেন।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে থাকসিনের রাজনৈতিক পরিবার থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে পরিচিত। তাঁর দল পেউ থাই পার্টি এবং এর আগের সংস্করণগুলো একবিংশ শতাব্দীতে দেশটির সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি। সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকেই চারজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের সমর্থন বরাবরই শক্তিশালী।

তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে পেউ থাই পার্টি বড় ধাক্কা খায়। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়, যা থাকসিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদিও বর্তমানে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে পেউ থাইয়ের অংশগ্রহণ দলটির জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে রেখেছে।

থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত, যিনি পেউ থাইয়ের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছিলেন, বর্তমানে অনুতিনের মন্ত্রিসভায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
সাজা কমানোর পেছনের প্রেক্ষাপট
থাকসিন ২০০১ এবং ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন।

২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে সেই সাজা কমিয়ে এক বছর করা হয়।

প্রথমে তাকে কারাগারে না রেখে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে হাসপাতালের একটি ব্যক্তিগত কক্ষে রাখা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন না এবং হাসপাতালে কাটানো সময়কে সাজা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এরপর তাকে ব্যাংককের একটি কারাগারে পাঠানো হয়।

থাই কারা বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার যেসব ৮৫০ জনের বেশি বন্দি আগাম মুক্তির অনুমোদন পেয়েছেন, থাকসিন তাদের মধ্যেই একজন।