পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটপর্ব ঘিরে রাজ্যের একাধিক জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধর ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা থেকে শুরু করে সাতগাছিয়ায় শিশুর আহত হওয়া, সবকিছু নিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বাহিনীর ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভোটের দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং মারধর করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও মহিলা ভোটারদের হেনস্তা করা হয়েছে, কোথাও বৃদ্ধদের উপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, সাতগাছিয়ায় এক শিশুও বাহিনীর আঘাতে আহত হয়েছে।


সমাজমাধ্যমে কড়া ভাষায় অভিষেক লেখেন, বাংলায় ঘুরে বেড়ানো জল্লাদদের চিহ্নিত করা হবে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কারা বাহিনীকে রক্ষা করছে বা তারা কোন রাজ্য থেকে এসেছে, তা নিয়ে তৃণমূলের কিছু যায় আসে না। এই ধরনের বর্বরতার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তৃণমূল নেতার দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী এখন কার্যত বিজেপির রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, অমিত শাহের অধীনস্থ বাহিনীকে বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভোর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের উপর সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ এসেছে। মহিলাদের চড় মারা, বয়স্কদের ধাক্কা দেওয়া এবং শিশুদের পর্যন্ত আক্রমণ করার মতো ঘটনা সামনে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
একইসঙ্গে ২০২১ সালের শীতলকুচির ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, সেই সময় যে মানসিকতা দেখা গিয়েছিল, এবারও একই ধরনের আচরণ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তিনি দাবি করেন, সেই ঘটনার জন্য আগের নির্বাচনে বিজেপিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছিল, আর এবার তার থেকেও বড় মূল্য চোকাতে হবে।

উদয়নারায়ণপুরের ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগ, ভোট দিতে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এক বৃদ্ধ। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বাহিনীর ধাক্কাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে সাতগাছিয়ায় এক শিশুর আহত হওয়ার অভিযোগ এবং তারকেশ্বরে ক্যানসার আক্রান্ত এক মহিলাকে মারধরের অভিযোগও ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে চললেও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।