পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভায় স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়। শনিবার দুপুরে তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবনে পৌঁছল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির একটি দল। ৪ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল বেশ কিছুক্ষণ বাড়ির সামনে অপেক্ষা করলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা হয়নি।

সূত্রের খবর, দুপুরের কিছু পরেই তদন্তকারীরা অভিষেকের বাড়ি শান্তিনিকেতন-এ পৌঁছন। তাঁরা দরজায় যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

কিছুক্ষণ পরে বাড়ির এক কর্মী বাইরে এসে তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারের কেউ উপস্থিত নেই। তাঁদের কোথায় গিয়েছেন, সে বিষয়েও তিনি কিছু বলতে পারেননি। জানা গিয়েছে, তদন্তকারীরা ওই কর্মীর পরিচয় নথিভুক্ত করেন এবং কিছু প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তাঁরা সেখান থেকে ফিরে যান।

এই তদন্তের সূত্রপাত বিধানসভায় পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি স্বাক্ষর বিতর্ককে ঘিরে। তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনে জয়ী বিধায়কদের একটি বৈঠকে পরিষদীয় নেতা নির্বাচন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটি চিঠি বিধানসভায় জমা পড়ে। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, ওই নথিতে এমন কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে, যাঁরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। এই অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।

পরে বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি।

ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, যে বৈঠকের স্বাক্ষর তাঁদের দেখানো হয়েছে, সেই বৈঠকে তাঁরা উপস্থিত ছিলেন না। সেই সূত্র ধরেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তদন্তকারীদের যাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও শনিবার তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।