পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা সামনে আসতেই দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য তামিলনাড়ু ও কেরল নিয়ে যে পূর্বাভাস মিলছে, তা বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। 

বেশিরভাগ এক্সিট পোলের ইঙ্গিত, তামিলনাড়ুতে আবারও ব্যর্থ হতে পারে বিজেপি, আর কেরলে সরকার গড়তে পারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। একই সঙ্গে দেশে বামেদের প্রভাবও কার্যত শূন্যের মুখে চলে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সবচেয়ে বেশি চমক দেখা যাচ্ছে তামিলনাড়ুতে। বহু বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই ১৫ থেকে ২৫টি আসন পেতে পারে।

তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর পূর্বাভাস দিয়েছে ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’, যেখানে বলা হয়েছে, ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেয়ে বিজয়ের দল একক বৃহত্তম শক্তি হয়ে উঠতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে এম জি রামচন্দ্রণ ও জয়ললিতার পর তামিল রাজনীতিতে ফের এক চলচ্চিত্র তারকার উত্থান দেখা যাবে।

যদিও অধিকাংশ সমীক্ষা বলছে, এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে-ই আবার ক্ষমতায় ফিরবে। ফলে বিজেপি-এআইএডিএমকে জোট সরকার গড়ার মতো অবস্থায় নেই বলেই ইঙ্গিত মিলছে। অর্থাৎ, বহু প্রচার সত্ত্বেও তামিলনাড়ু বিজেপির নাগালের বাইরে থাকছে, যা মোদির রাজনৈতিক কৌশলের জন্য বড় ধাক্কা।

অন্যদিকে কেরলেও বিজেপির অবস্থার খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না।

সমীক্ষাগুলির মতে, সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ অল্প ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরতে পারে। এলডিএফ এবং ইউডিএফের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও বিজেপি উল্লেখযোগ্য জায়গা করতে পারছে না। ফলে কেরলে বিজেপির স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে, আর কেরল হারালে বামেরা জাতীয় স্তরে প্রায় শূন্য হয়ে পড়বে।

অসমে অবশ্য বিজেপির জন্য সুখবর রয়েছে। সব বুথফেরত সমীক্ষাই বলছে, সেখানে বিজেপি জোট ফের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়ের কৃতিত্ব প্রধানত মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার, জাতীয় নেতৃত্বের নয়।

ফলে অসমে জয় এলেও তা মোদির রাজনৈতিক সাফল্যের বড় প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না।

পুদুচেরিতেও বিজেপি জোটের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তার গুরুত্ব তুলনামূলক কম।
সবচেয়ে অনিশ্চয়তার ছবি পশ্চিমবঙ্গে। একেকটি সমীক্ষায় একেক রকম পূর্বাভাস-কোথাও তৃণমূলকে ২০০-র বেশি আসন, কোথাও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে বাংলার ফলাফল নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। অতীতেও দেখা গেছে, বাংলার ভোটে এক্সিট পোল বহুবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তাই এখানকার ফলাফল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুমান করা কঠিন।