পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সকালের শান্ত পরিবেশ দুপুর গড়াতেই বদলে গেল ভাঙড়ে। দ্বিতীয় দফার ভোটে শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে প্রাণগঞ্জের রঘুনাথপুর এলাকা। আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে জয় বাংলা স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তেজনার রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্লোগান শোনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেন নওশাদ। তিনি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যান এবং তাঁদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, "এত উত্তেজনার কারণ কী?

" এর পর দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আইএসএফ এবং তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ শুরু হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
সকালে অবশ্য ভাঙড়ের ছবি ছিল একেবারেই আলাদা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বহু মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কয়েকটি বুথে ইভিএম বিভ্রাটের কারণে ভোট শুরুর সময় কিছুটা দেরি হলেও বড় কোনও গোলমালের খবর ছিল না।
কিন্তু দুপুরের পর রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
ভোট চলাকালীন সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। প্রাণগঞ্জ এলাকায় ঢোকার পর তাঁকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের স্লোগান ঘিরেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পরেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামেনি। পরে নিজের দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে আবার ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন নওশাদ।
তাঁকে ঘিরে ফের শুরু হয় স্লোগান ও বিক্ষোভ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বুঝে ভাঙড় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এলাকায় পৌঁছন। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর নওশাদ সিদ্দিকিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। তাঁর দাবি, ওঁর আচরণ ও কথাবার্তা স্বাভাবিক নয়। যা করছেন, তাতে মনে হয় উনি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। তাই ওঁর অভিযোগকে আমরা গুরুত্ব দিই না।