পুবের কলম ওয়েবডেক্স :
লাগাতার ছ’মাস ধরে নিজেকে ‘নাগরিক’ প্রমাণের হয়রানি, নিরাপত্তাহীনতা এবং বাংলাকে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে দেওয়া। আর সবটাই বাংলার সাধারণ মানুষকে ঘুঁটি বানিয়ে। গণতন্ত্রকে রাজনৈতিক এজেন্ডা স্তরে নিয়ে যাওয়ার এই গোটা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আজ দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট। প্রতিবাদের ভোট। পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া, কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনার ১৪২ আসনে। 
অক্টোবর মাসে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১১টি রাজ্যে এসআইআর শুরুর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কমিশন। সেখানেই শুরু হয়রানির। কারণ, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য একের পর এক নির্দেশিকা। প্রথম থেকেই বিএলওদের আপলোড সমস্যা, নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি আগেই বন্ধ করে দেওয়া,সময়ের আগেই যেনতেন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করা। তাতেই থেকে গেল বিস্তর ভুলভ্রান্তি। ক্ষোভ বাড়ল বাংলার মানুষের। সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখানোর শেষ সুযোগ আজ। ভোটে।
আর ছিল অপরীক্ষিত সফটওয়্যার ব্যবহার করার জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা এলডি ভোটারের সমস্যা। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে।

কাজের চাপে একের পর এক বিএলওর মৃত্যুতেও  গা করল না কমিশন। আতঙ্কে আত্মঘাতী হলেন বহু ‘বৈধ ভোটার’। বুকে পাথর চেপে তাঁদের পরিবারও আজ ভোট দেবেন। প্রতিবাদ জানাবেন।১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় দেখা গেল, প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ। একের পর এক জীবিত ভোটার হয়ে গেলেন মৃত। কিন্তু সেটাও যথেষ্ট নয়! তাই বাংলার জন্য জন্ম নিল কমিশনের আর এক টোটকা—অ্যাডজুডিকেশন। নামের সামান্য বানান ভুলের জন্য বৈধ ভোটাররা লাইনে দাঁড়ালেন। ক্ষোভ বাড়ল, যে নথি দেখিয়ে অন্য ভোটারকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেই একই নথি বহু মানুষের ক্ষেত্রে মান্যতা পাচ্ছে না। অভিযোগ উঠল, কেন্দ্রীয় কমিশন নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভাররা ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। ইআরওরা বাংলার মানুষের যন্ত্রণা দেখলেন। কিন্তু তাঁদের হাত বাঁধা। চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল, ৯১ লক্ষ নাম বাদ চলে গিয়েছে। তৃণমূল, সিপিএম আদালতের দরজা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল লড়াই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সওয়াল করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। তার জেরে ট্রাইবুনাল হল। 
কিন্তু দিনের শেষে দেখা গেল, সেখানেও বিচারক-বিচারপতিরা যথাযথ সহযোগিতা পেলেন না। ফল? প্রথম দফার ভোটের আগে মাত্র ৬৫০ জনের নাম নিষ্পত্তি হল। আর আজ, বুধবার শেষ দফার ভোটের আগে অন্তর্ভুক্ত হল মাত্র ১৪৬৮ ভোটারের নাম। বাদ গেলেন ছ’জন। প্রায় ৩৭ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে। তিন-চার প্রজন্ম এই রাজ্যের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা ‘অবৈধ’ হয়ে গেলেন। ভোট তাঁরা দিতে পারবেন না। কিন্তু তাঁদের ব্যাটন তুলে নিয়েছেন সেই ভোটারদের প্রতিবেশীরা। সহমর্মীরা। ভোট আজ তাঁরাও দেবেন। প্রতিবাদ জানাবেন।
এর মধ্যেই হয়েছে লাগাতার বদলি।
ভোট ঘোষণার দিন থেকে ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত। একেবারে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায় থেকে। সংখ্যাটা ৫০০ ছাপিয়ে গেল। শুধুমাত্র বাংলায়। খোলনলচে বদলে গেল প্রশাসনের। যোগ্য অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া হল সাইডলাইনেরও বাইরে। 
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রোড-শোতে কেন সাধারণ মানুষ ‘বিরুদ্ধ স্লোগান’ দিয়েছে? এই প্রশ্নে সাসপেন্ড হয়ে গেলেন বাংলার পুলিশ অফিসাররা। ভোট তাঁরাও দেবেন। প্রতিবাদ জানাবেন। ভোটে। কারণ, এই একটিই মাধ্যম রয়েছে সাধারণ মানুষের। প্রতিবাদের, প্রতিরোধের। সংবিধান তাকে সেই অধিকার দিয়েছে। আজ সেই অধিকার প্রয়োগের দিন।