পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির। বিশ্ব বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির (আইসিসি) নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই স্পষ্ট হয়ে গেল, ক্যাম্পাসে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি বিজেপির ছাত্র সংগঠন। বরং ভোটের ফল যেন সরাসরি জবাব দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দিলীপ ঘোষের সন্ত্রাসবাদী সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আবারও প্রাধান্য বজায় রাখল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ফল ঘোষণার পর লাল আবিরে মেতে ওঠেন পড়ুয়ারা। অন্যদিকে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদও কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।
স্নাতকোত্তর কলা বিভাগে তারা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।আরও পড়ুন:
এপ্রিল মাসের ৮ এবং ২১ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, দুই ক্ষেত্রেই জয় পেয়েছে স্বতন্ত্র ছাত্রজোট। কলা বিভাগের দুটি আসন দখল করেছে ছাত্র ফেডারেশন। ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি বিভাগেও সাফল্য পেয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্রমঞ্চ। স্নাতক স্তরে জয়ী হয়েছেন মেহুলি সরকার এবং স্নাতকোত্তরে খুরশিদা বানো।
আরও পড়ুন:
নির্বাচনের আগে বঙ্গ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম প্রাচীন ও নামী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান ওঠে এবং পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই মন্তব্যের সুর আরও চড়িয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ যাদবপুরকে অসভ্যদের কারখানা বলেও আক্রমণ করেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল বলছে, সেই মন্তব্যে ছাত্রসমাজের একাংশের মধ্যে উল্টে ক্ষোভই তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই নির্বাচনে একটিও আসন পায়নি বিজেপির ছাত্র সংগঠন। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ক্যাম্পাসে শুরু হয় উদযাপন।
ছাত্রছাত্রীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পক্ষেই রায় দিয়েছে পড়ুয়ারা।আরও পড়ুন:
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের উপর চাপও ছিল যথেষ্ট। কারণ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ছাত্র সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হন দুই অধ্যাপকও। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করে কয়েকজন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই অশান্তির আবহ কাটিয়ে অবশেষে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় মহল।