পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ চুপিসারে এগিয়ে আসছে এক ভয়াবহ সংকট, যার শব্দ নেই, কিন্তু প্রভাব মারাত্মক। সতর্কবার্তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার মতে, লাগামছাড়া গরম ও তাপপ্রবাহ আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে,  যেখানে শহরের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। ২০৫০ সালের মধ্যে এই চরম তাপের প্রভাবে শহরের গরিব দরিদ্র মানুষ ৭০০% আরও গরিব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে,  এই সমস্যা আর কেবল ঋতুভিত্তিক অস্বস্তি নয়। ধীরে ধীরে এটি রূপ নিচ্ছে এক বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে। বিশেষ করে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো যেখানে আয় কম,  আর প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণতা বেশি সেখানে ঝুঁকি অনেক বেশি। এশিয়া ও আফ্রিকার শহরগুলিই এই বিপদের মুখে সবচেয়ে বেশি দাঁড়িয়ে।

সংস্থার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দ্রুত শহরায়নের ফলে নগরগুলির উপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। জনসংখ্যা, অবকাঠামো,  জল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের উপর এই চাপ ভবিষ্যতে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। বিদ্যুতের ঘাটতি,  জলের অভাব, কাজের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া এসব সমস্যার পাশাপাশি বাড়তে পারে অসুস্থতা ও মৃত্যুর হারও। ইতিমধ্যেই তীব্র গরমের কারণে প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যু ঘটছে, যদিও তার অনেকটাই নথিভুক্ত হয় না।

বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় প্রায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এর ফলে তাপপ্রবাহের সময়কাল দীর্ঘ হচ্ছে এবং তার তীব্রতাও বাড়ছে। শহরাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল, অনেক ক্ষেত্রে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামের তুলনায় প্রায় দশ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দিতে হবে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করে তাপমাত্রার মানচিত্র তৈরি করা,  আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, তাপপ্রবাহের সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য আরও বেশি শীতল কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।