ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবার বাংলার ভোটমঞ্চে। শনিবার জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া জেলা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে বান্দোয়ান, মানবাজার ও কাশীপুর—এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে একাধিক জনসভা করবেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় হেমন্ত সোরেনকে সামনে এনে তৃণমূল বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে।

দলীয় সূত্রে খবর, বান্দোয়ানে তৃণমূল প্রার্থী রাজীবলোচন সোরেন, মানবাজারে বিদায়ী মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু এবং কাশীপুরে সৌমেন বেলথরিয়ার সমর্থনে সভা করবেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী কল্পনা সোরেনও আসতে পারেন বলে জানা গেছে। তিনটি সভার স্থানও ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে—মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের আঁকরো, পুঞ্চা ব্লকের বদড়া ফুটবল ময়দান এবং কাশীপুরের ধানাড়া ফুটবল ময়দান।

এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসী ভোটার রয়েছেন।

বিশেষ করে বান্দোয়ান ও মানবাজার কেন্দ্র তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত হওয়ায় এই সভাগুলির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির বিরুদ্ধে আদিবাসী জনসমর্থন ধরে রেখে ক্ষমতায় আসা হেমন্ত সোরেন বাংলার আদিবাসী ভোটারদের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক শক্তির উত্থানকে সামনে রেখে বাংলার আদিবাসী সমাজের কাছে একটি রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে তৃণমূল। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই হেমন্ত সোরেনকে প্রচারে নামানো হয়েছে। ভোটের মুখে জঙ্গলমহলে এই প্রচারসভাগুলি যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, তা বলাই বাহুল্য।