পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার তাহসিন মুহাম্মদ জামসিদ। প্রথম ভারতীয় হিসেবে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে চলা ২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠে নামবেন তিনি। বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে এ দিন ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে কাতার। সেই কাতার দলে রয়েছেন কেরলমের কান্নুরের বাসিন্দা ও বিখ্যাত অ্যাস্পায়ার অ্যাকাডেমির ১৯ বছর বয়সি প্রতিভাবান ফুটবলার তাহসিন। অ্যাস্পায়ার অ্যাকাডেমি যা মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র।

তাহসিন হলেন থালাসেরির বাসিন্দা ও কালিকট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড় জামশিদ এবং ভালাপত্তনমের বাসিন্দা শাইমার দ্বিতীয় পুত্র। ভালাপট্টনম ও পায়াম্বালামের থাঙ্গালভায়ালের লনে ফুটবল খেলা জামশিদ কেরলমের প্রাক্তন যুব খেলোয়াড় এবং কালিকট বিশ্ববিদ্যালয় দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন। তিনি কান্নুরের এসএন কলেজে পড়ার সময় কালিকট বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে খেলতেন। চোটপ্রবণ কেরিয়ার কাটানোর মাঝে ১৯৯৬ সালে জামশিদ পরিবার নিয়ে কাতারে চলে যান। বর্তমানে তিনি কাতারের একটি সংস্থার প্রধান হিসাবরক্ষক।

তাহসিন জন্ম কাতারে। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। 

পিতা জামসিদের কাছে ফুটবল খেলা শুরু করে তাহসিনের। কাতারের অ্যাস্পায়ার অ্যাকাডেমিতে তার পথচলা শুরু। একজন স্ট্রাইকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাহসিনের। কাতারের জুনিয়র ও যুব দলে সাফল্য অর্জনের পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে কাতার স্টাসর লিগের ক্লাব আল দুহাইলে যোগ দেন। সেখানে তিনি প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে খেলার গৌরব অর্জন করেন। এর আগে তাহসিন কাতারের জাতীয় দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগেও খেলেছেন। তার মাঝে ২০২৪ সালের জুন মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ফিফার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে সবার নজরে আসেন তাহসিন।

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে চলা বিশ্বকাপে কাতার নিজেদের মাটিতে ২০২২ সালের হতাশাজনক অভিযানকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে খেলতে নামছে।

উপসাগরীয় এই দলটি নীরবে নিজেদের গতি পুনরুদ্ধার করেছে, ২০২৩ সালে এএফসি এশিয়ান কাপ ধরে রেখে এবং প্রথমবারের মতো যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে। কোচ লোপেতেগুইয়ের মূল দলটিই রয়েছে এই বিশ্বকাপে। যেখানে ২০২২ সালের দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন। ডিফেন্ডার পেদ্রো মিগেল, গোলরক্ষক মেশাল বারশাম এবং মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো, আধুল আজিজ হাতেম ও করিম বৌদিয়াফ খেলেছেন কাতার বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে কাতার বি গ্রুপে সুইৎজারল্যান্ড, কানাডা এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে খেলবে। 

২০২৬ বিশ্বকাপে ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে কাতারের স্প্যানিশ কোচ জুলেন লোপেতেগুই এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন মূল দলের খেলোয়াড়দের গুরুত্ব দিলেন। সেই মতো তিনি কাতারের বিশ্বকাপ দলে তাহসিনের মতো তরুণ ফুটবলারকে সুযোগ দিলেন। তাতেই ফুটবল বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে তাহসিন ইতিহাস গড়ে ফেলেন। এমন খুশির আবহে এক প্রতিক্রিয়ায় তাহসিন বলেন, বিশ্বকাপ দলে খেলার সুযোগ পাওয়ায় আমি খুব খুশি। আজকের এই দিনটার জন্য আমি আল্লাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

আমার এই সাফল্যের জন্য বাবা মা বন্ধু-বান্ধবদের ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাকে সমর্থন না করলে, আমি এই জায়গায় আসতে পারতাম না। এ ছাড়া আমি মনে করি, কাতারের অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আগে থেকেই খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় বিশ্বকাপ দলে আমার কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ভালাপট্টনমের প্রাচীন পৈতৃক নিবাসী চাঙ্গালামচালিপ্পুরামের পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুত্র হলেন তাহসিন। ছুটির দিনে পিতা জামশিদ ও মা শাইমার সঙ্গে দেখা করতে প্রতিনিয়ত কেরলমের বাড়িতে ফেরেন তাহসিন। কান্নুরে ফিরলে তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। পাশাপাশি ছোটবেলার  বন্ধুদের সঙ্গে পাড়ায় ফুটবল খেলতে কখনই ভুলতেন না। চার বছর আগে তার তাহসিনের নানিমা রামলাথ মারা যাওয়ার সময়ও কেরলমে নিজের বাড়ি ফিরেছিলেন। আজ সেই ঘরের ছেলে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা কান্নুরের পাশাপাশি গোটা দেশ। প্রথম মালাইলি ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলে সুযোগ পাওয়ায় তাহসিনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। ছেলের প্রশংসায় পিতা জামসিদ বলেন, আজ একজন পিতা হিসেবে আমার গর্ব হচ্ছে। পৃথিবীর প্রতিটা বাবা চায়, তার ছেলে এভাবে দেশের এবং দশের মুখ উজ্জ্বল করুক।