উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মৎস্যজীবিদের মৃত্যু ঘটেই চলছে। আবারও কুলতলিতে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হল এক মৌলের। মৃতের নাম রামপ্রসাদ বাগানী। এই নিয়ে পরপর চারদিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। পরপর চারদিন বাঘের আক্রমণের শিকার হলেন চার জন।
তার মধ্যে তিন জন মারা গিয়েছেন। এই নিয়ে এক মাসের মধ্যে ছয় জন বাঘের হামলার শিকার হলেন। পুরো বিষয়টি বন দফতর খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেল।আরও পড়ুন:
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেল গত শুক্রবার সুন্দরবনের কুলতলির দেউলবাড়ি থেকে রামপ্রসাদ বাগানি, শম্ভু নস্কর ও দেবপ্রসাদ নাইয়া তিনজন কুলতলির চাপাদারের ঘাট থেকে দোবাঁকি এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে যান। আর সেখানেই রামপ্রসাদের উপরে পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি বাঘ।
সঙ্গীরা রামপ্রসাদকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও বিফল হয়। বাঘের হুংকার ও গর্জনে তারা দেহ রেখে পালিয়ে যান। পরে বাড়ির দিকে রওনা দেন। বাড়িতে এসে এই খবর দিলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যদিও এই মুহূর্তে নদীতে মাছ কাঁকড়া ও জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করা বন দফতরের নির্দেশিকায় বারণ থাকলেও পেটের টানে মৎস্যজীবীরা নদীতে মাছ কাঁকড়া ও জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে যাচ্ছে। আর তার ফলেই বাঘ মৎস্যজীবীদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ছে বাঘ। আর এই অধিকার ফিরিয়ে আনতে কাজ করে চলেছে এপিডিআর নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন।আরও পড়ুন:
সেই সংগঠনের সহ সভাপতি রঞ্জিত শূর বুধবার বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জঙ্গলে গিয়ে বাঘের আক্রমনের শিকার হচ্ছে মৎস্যজীবিরা। একাধিকবার বন দফতর ও পুলিশকে বলেও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি দেহ না উদ্ধার করা যায় তাহলে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ পেতে সমস্যা হবে। শুধু তাই নয় আহত মৎস্যজীবীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলিকে ক্ষতি পুরণ সরকারকে দিতে হবে। নাহলে আমাদের লড়াই চলবে।