পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দিল্লির মালব্য নগরের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রাণ কেড়েছে ২১ জনের। এরমধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের ৮ জন সদস্য। তাঁরা গুরুগ্রামের বাসিন্দা। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক আগরওয়াল, তাঁর স্ত্রী তরজানি আগরওয়াল, দুই কন্যা পার্ল ও জিভিশা এবং বিবেকের মা প্রেমলতা আগরওয়াল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল পরিবারের তিন প্রজন্ম।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৬-এর বাসিন্দা আগরওয়াল পরিবারটি কয়েক দিন ধরে মালব্য নগরের ওই হোটেলে থাকছিলেন।
কারণ, বিবেকের বাবা অসুস্থ অবস্থায় একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর চিকিৎসার সুবিধার্থেই পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।বুধবার ভোরে আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন অংশে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ধোঁয়া ও আগুনের ফলে ভেতরে আটকে পড়েন মানুষজন। আগরওয়াল পরিবারের সদস্যরাও বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ পাননি।আরও পড়ুন:
পরিবারের এক আত্মীয় জানান, আগুন লাগার সময় বিবেক আগরওয়াল আতঙ্কিত অবস্থায় ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে এবং তাঁরা সবাই ভেতরে আটকে পড়েছেন। বেরিয়ে আসার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ফোনের অপর প্রান্তে অসহায় আর্তি শুনলেও দূরে থাকায় কোনো সাহায্য করতে পারেননি তিনি ।আত্মীয়দের দাবি, দরজা এবং কাচের জানালাগুলি সময়মতো না খোলায় পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ফলে আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যেই অনেকে আটকে পড়েন সেখানে।
এই দুর্ঘটনায় আগরওয়াল পরিবারের আরও তিন আত্মীয়েরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা রাজস্থান থেকে এসেছিলেন হাসপাতালে ভর্তি বিবেকের বাবাকে দেখতে। যদিও হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা বিবেকের বাবার কাছে এখনও খবর পৌছায়নি যে তাঁর স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ, নাতনি এবং আত্মীয়দের অধিকাংশই আর বেঁচে নেই।আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৬-এ আগরওয়াল পরিবারের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। যে বাড়ি একসময় পরিবারের হাসি-আনন্দে মুখর থাকত, সেখানে এখন শুধুই নীরবতা। প্রতিবেশীরা স্তম্ভিত, আত্মীয়রা বাকরুদ্ধ। লাশহগুলি পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার পর শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।