উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ কুলতলি থানার দেউলবাড়ী-দেবীপুর অঞ্চলের মাধবপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল একটি বড় মুরগির ফার্ম। আগুনে প্রায় ২০০০ মুরগির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মুরগি চাষির অভিযোগ, প্রতিহিংসার জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে। তিনি প্রতিবেশীদের একাংশের বিরুদ্ধে কুলতলী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধবপুর এলাকার এক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে মুরগির ফার্ম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন রাতেও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গভীর রাতে আচমকা ফার্মের দিক থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয় এবং গোটা ফার্ম জ্বলতে শুরু করে। চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে জল এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কেউ বালতি, কেউ পাম্প ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শেষ পর্যন্ত পুরো ফার্ম প্রায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভেতরে থাকা প্রায় ২০০০ মুরগি আগুনে পুড়ে মারা যায় বলে দাবি পরিবারের।আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ফার্মের কাঠামো, খাদ্য মজুত ও অন্যান্য সরঞ্জামও ভস্মীভূত হয়ে যায়। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত মুরগি চাষি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু প্রতিবেশীর সঙ্গে নানা মতভেদ চলছিল। সেই শত্রুতার জেরেই পরিকল্পনা করে গভীর রাতে ফার্মে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকের কথায়, “বহু বছরের কষ্টের পর এই ফার্ম তৈরি করেছিলাম। সব শেষ হয়ে গেল।
প্রায় ২০০০ মুরগি পুড়ে মারা গিয়েছে। এটা দুর্ঘটনা নয়, ইচ্ছে করে আগুন লাগানো হয়েছে।এই ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় কুলতলী থানার পুলিশ।আরও পড়ুন:
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের ভূমিকা সম্পর্কেও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ঘটনায় কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন ওই ফার্মের মালিক।