সেখ কুতুবুদ্দিনঃ  আগে ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহার নামায হত রেড রোডে। এবছর আর রেড রোডে নামায আর হবে না। তার পরিবর্তে নামায হবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। ইতিমধ্যে সেনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই অনুমোদন মিলেছে। শুক্রবার এ কথা বলেন, খিলাফত কমিটির সভাপতি জাভেদ আহমেদ খান। এদিন তিনি বলেন, ব্রিগেডে নামায শুরু হতে পারে ৮ টা ৩০ মিনিটে।

নামায পড়াবেন ঈমামে ঈদাইন ক্কারী ফজলুর রহমান। কোন দিকে স্টেজ হবে, তা খতিয়ে দেখতে আজ ৫ টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ, ঈদের নামাযের জন্য এই জায়গা নতুন। তাই পরিদর্শক করে বলা সম্ভব।

 উল্লেখ্য, সেনার অনুমতিতেই এত দিন রেড রোডে নামায পড়া হয়েছে। নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে পুলিশ।

বিজেপি সরকারের কাছেও সেই প্রত্যাশা সংখ্যালঘুদের। তবে রাস্তা বন্ধ করে ধর্মাচরণ সরকারি নীতির পরিপন্থী। এদিকে কলকাতার একাধিক জায়গায় ঈদের নামায নিয়ে এ'নও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। 

বহু আগে এই নামায হত শহীদ মিনারে।  বৃষ্টি বা বর্ষার জন্য এই নামায রেডরোডে স্থানান্তর হয়। এর মধ্যে করোনা পরিস্থিতির সময় ২০২০ এবং ২০২১ সালে ঈদের নামায রেড রোডে হয়নি।

  রেড রোডের নামাযের জন্য পুলিশ ও সেনার অনুমোদন প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতার কেন্দ্রস্থলের রেড রোড একটি বিমানঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। 

এই ঐতিহাসিক রেড রোড, যা এখন ইন্দিরা গান্ধি সরণি নামে পরিচিত, সম্প্রতি ঈদ উল আযহার নামাযের কারণে সংবাদ শিরোনামে এসেছে। রেড রোড পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে ‘সামরিক ব্যবহার’-এর কারণ দেখিয়ে কলকাতা খিলাফত কমিটিকে রাস্তাটিতে প্রথমে ঈদ উল আযহার নামায আদায়ের অনুমতি দেয়নি। তবে, দু-এক দিন পরেই সেনাবাহিনী রেড রোডে ঈদের নামাযের অনুমতি দেয়। যেখানে ১৯১৯ সাল থেকে ঈদের নামায অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর ব্যতিক্রম ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং কোভিডের বছরগুলো।