উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ আবার সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হলেন এক মৌলে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি এলাকায়। আহত যুবকের পরিবারে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করুক বনদফতর। 

জানা গিয়েছে, আহত যুবকের নাম ছাদেক ঢালী (২৪)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির মৈপিঠ কোস্টাল থানা এলাকার নগেনাবাদ মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে খবর, সংসারের আর্থিক অভাব মেটাতে সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহের কাজ করতেন তিনি।

প্রায় চার দিন আগে সাতজন সহকর্মীকে নিয়ে সুন্দরবনের বাতাকাঠী জঙ্গলে মধু সংগ্রহের উদ্দেশে যান ছাদেক। বৃহস্পতিবার বিকেলে মধু সংগ্রহের কাজচলাকালীন আচমকাই ঘটে এই বিপত্তি।অভিযোগ, জঙ্গলের ভিতরে হঠাৎ একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাদেকের ওপর। মুহূর্তের মধ্যে গুরুতর জখম হন তিনি। বাঘের থাবা ও কামড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যুবক। সেই সময় সঙ্গে থাকা সঙ্গীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাউস্তার ঢালী, আবদুল্লা ঢালী, মুরসেলিম শেখ, শিবো সাপুই, আবিয়া ঢালী, আমেনা পিয়াদা ও ফাতেমা ঢালী অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বাঘের মুখ থেকে ছাদেককে উদ্ধার করেন।জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত নৌকায় করে জঙ্গল থেকে বের করে আনা হয়।
এরপর প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় কুলতলির জয়নগর-কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।সেখানে শুক্রবার চিকিৎসা চলছে তার। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

 হাসপাতাল সূত্রে খবর, শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত রয়েছে।চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগে পড়েছে ছাদেকের পরিবার। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য বলে জানা গিয়েছে।

বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই ছোট সন্তান।হঠাৎ এই দুর্ঘটনার পর সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। কীভাবে চলবে সংসার, সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ কীভাবে বহন হবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পরিবারে। ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন ‘এপিডিআর’-এর রাজ্যস্তরের এক পদাধিকারী  জানান, সুন্দরবনের মধু সংগ্রহকারী ও মৎস্যজীবীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাই বন দফতরের উচিত দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা। উল্লেখ্য, চলতি বছরে কুলতলি এলাকায় বাঘের আক্রমণে আক্রান্ত হলেন অন্তত দুইজন মৌলে। ফলে সুন্দরবনের জঙ্গলে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।তবে এ ব্যাপারে বন দফতর থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি।