অবশেষে স্বপ্নপূরণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অসংখ্য ব্যর্থতা আর হতাশার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতসেরার মুকুট উঠল ইস্ট বেঙ্গলের মাথায়। বৃহস্পতিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল লাল-হলুদ। প্রথমবার আইএসএল জিতে উল্লাসে ফেটে পড়লেন হাজার হাজার সমর্থক। আবির, মশাল, স্লোগান আর আবেগে মোড়া এক স্মরণীয় রাতের সাক্ষী থাকল কলকাতার ফুটবল।
আরও পড়ুন:
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইস্ট বেঙ্গলের জন্য সুখকর ছিল না। ১৪ মিনিটে ইন্টার কাশীর আলফ্রেড প্লানাস গোল করে এগিয়ে দেন দলকে।
মুহূর্তে চাপা নেমে আসে গ্যালারিতে। তবে সেই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেয়নি লাল-হলুদ। মাঠে ফুটবলারদের লড়াই আর গ্যালারিতে সমর্থকদের গর্জনে বদলে যেতে থাকে ম্যাচের ছবি।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরান ইউসেফ এজ্জেজারি। এরপর ৭২ মিনিটে ডানদিক থেকে বিপিনের বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে দেন রশিদ। সেই গোলের পর যেন বিস্ফোরিত হয় কিশোর ভারতী। গ্যালারি জুড়ে তখন শুধু উন্মাদনা আর উৎসব।
আরও পড়ুন:
১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেষ করল ইস্ট বেঙ্গল। ক্লাব তাঁবুতেও জায়ান্ট পর্দায় খেলা দেখতে হাজির ছিলেন হাজার হাজার সমর্থক। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় আবেগের বিস্ফোরণ। কেউ আনন্দে কাঁদছেন, কেউ চিৎকার করে উদযাপন করছেন বহু প্রতীক্ষিত সাফল্য।
এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা দলের প্রশিক্ষক অস্কার ব্রুজোঁর। অতীতে বহু নামী প্রশিক্ষক এলেও যেটা সম্ভব হয়নি, সেটাই করে দেখালেন তিনি। ভেঙে পড়া দলকে নতুন করে গড়ে তুলে এনে দিলেন চ্যাম্পিয়নের সম্মান।
সন্ধ্যা নামার আগেই কিশোর ভারতীর বাইরে উপচে পড়েছিল জনসমুদ্র। টিকিটের জন্য ছিল হাহাকার। বাইপাস জুড়ে শুধু লাল-হলুদ জার্সির ঢেউ। মাঠের আশপাশের বাড়ির ছাদেও দাঁড়িয়ে ছিলেন অসংখ্য মানুষ। ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চাননি।
শেষ বাঁশি বাজার পরেও অনেক রাত পর্যন্ত স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল সমর্থকদের ঢল। প্রিয় ফুটবলারদের একবার চোখের দেখা দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন অনেকে। বহু বছরের যন্ত্রণা, আক্ষেপ আর অপূর্ণতা ধুয়ে মুছে দিয়ে এই রাত যেন নতুন করে বাঁচতে শেখাল ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের।