উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ ফলতার পুননির্বাচনে বেপাত্তা ফলতার বেতাজ বাদশা তৃনমূল কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর খান। আর তাই ১৫ বছর পরে নির্ভয়ে ভোট  দিয়ে খুশি ফলতার ভোটাররা। গত ২৯ শে এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল৷ কিন্তু তাতে বিপুল পরিমাণ কারচুপির অভিযোগ তুলে পথে নেমেছিলেন বহু ভোটার৷ তারপরে অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরে গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটই বাতিল করে কমিশন৷ 

২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন হলো৷গত ১৫ বছর জাহাঙ্গির খানের ভয় ভোট দিতে পারেনি ভোটাররা৷ এমনটাই অভিযোগ করেছে হাসিম নগর হাই স্কুলের ভোটাররা।গত ২৯ শে এপ্রিল ভোট না দিতে পেরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন তাঁরা।আর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইন। এখানে দুটি বুথ রয়েছে ১১০,১১০ এ।  ভোটারদের চোখে মুখে ছিল হাসির ছবি৷ কোনওরকম ভয় নেই বলে জানান তাঁরা, সকাল থেকেই ভোট দিয়েছেন উৎসাহী মানুষ।

গত মঙ্গলবারই প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করেন তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান। ফলতায় মূূল লড়াই বাম এবং বিজেপির মধ্যে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা, সিপিএমের প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি। কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুর রজ্জাক।এদিন পুনর্নির্বাচনের সকালে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায় ফলতার শ্রীরামপুর পশ্চিম দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে।এই স্কুলের ১৯০ ও ১৯২ নম্বর বুথে সকাল থেকেই ভিড়। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান গতবার এই স্কুলেই ভোট দিয়েছিলেন।
কিন্তু এদিন সকাল থেকেই তার কোনও খোঁজ মেলেনি। বাড়িতে তালা ঝুলছে।বানেশ্বরপুর আদর্শ বিদ্যামন্দির ১১৫ নম্বর বুথ। অভিযোগ জাহাঙ্গির খানের দলবল এই বুথে গত ২৯ তারিখ টেপ এবং আতর লাগিয়ে দিয়েছিল।এদিন সকাল থেকেই লম্বা লাইন বুথের বাইরে। নির্ভয়ে ভোট দেন ভোটাররা, তাঁদের দাবি দীর্ঘদিন ধরে এখানে সন্ত্রাস চলেছে তাই  কোনও ভোট দিতে পারেননি। আজ কোনও সমস্যা হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।
প্রার্থী নিখোঁজ থাকলেও ভয় নাকরেই ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ মানুষ।কেন্দ্রীয়বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চলে এ দিনের ভোটগ্রহণ। ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথেই হয় এদিন পুনর্নির্বাচন। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন।কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় চলে ভোট। প্রতিটি বুথে মোতায়েন ছিলো আধাসেনা।আর ১৫ বছর পরে দেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে পেরে তাই প্রচন্ড গরমকে উপেক্ষা করে উৎসবের আমেজে ভোট দিলেন ভোটাররা।