পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনের আগে ঘটে গেল বিরাট রাজনৈতিক বদল। হার মানলেন সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান । নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই তোলপাড় পড়ে গিয়েছে বাংলার রাজনীতিতে। কী কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও ফলতার বাহুবলি তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর নিজেই সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন, ফলতার উন্নয়নের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে।

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। মঙ্গলবারই ছিল প্রচারের শেষ দিন। ঠিক সেই সময়েই আচমকা প্রার্থীপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন জাহাঙ্গীর। কয়েক দিন আগেই ফলতার সভা থেকে জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, জাহাঙ্গিরের বিষয়টি তিনি নিজে দেখবেন। সেই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর প্রশংসা করায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা।

বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, যাঁরা এতদিন বড় বড় কথা বলতেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরাই ভোটের লড়াই ছেড়ে পিছিয়ে গেলেন। অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঠে চাপের মুখে পড়ে সরে দাঁড়ানো দুর্বলতার পরিচয়। তাঁর দাবি, অতীতে বহু হামলার মুখেও বামপন্থীরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছে,  কিন্তু এ ভাবে পিছু হটেনি।ফলতার নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উল্লেখ্য, ফলতার একবারে ডাকাবুকো নেতা হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি শিরোনামে আসেন। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন ডায়মন্ড হারবারে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিয়োগ করার পর জাহাঙ্গীরের নাম শিরোনামে উঠে আসে।

অজয় পাল উত্তরপ্রদেশের সিংঘম নামেই পরিচিত। দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগেই তিনি জাহাঙ্গীরের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই হুঁশিয়ারির পর জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, "পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।"কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই গেরুয়া ঝড়ে উড়ে যায় তৃণমূল। আর এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন জাহাঙ্গীর। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনপেরিয়ে গিয়েছে। তারপরেই ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ইভিএমে তাঁর নাম থাকবে বলেই জানা গিয়েছে।