বিয়েতে নগদ টাকা, সোনার গয়না থেকে শুরু করে বিলাসবহুল গাড়ি—সবই দিয়েছিল মেয়ের পরিবার। তবুও শেষ রক্ষা হল না। বিয়ের মাত্র ১৭ মাসের মাথায় রহস্যজনক মৃত্যু হল বছর ২৫-এর দীপিকা নাগেরের। অভিযোগ, পণের দাবিতে দীর্ঘদিন অত্যাচারের পর তাঁকে খুন করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃতার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নয়ডার বাসিন্দা সঞ্জয় নারাং-এর সঙ্গে দীপিকার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ির দাবি মেনে প্রায় এক কোটি টাকার পণ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। মৃতার পরিবারের দাবি, নগদ ১১ লক্ষ টাকা, প্রায় ৫১ লক্ষ টাকার সোনার গয়না এবং ফরচুনার ও স্করপিওর মতো দামি গাড়িও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত কিছুর পরও নাকি আরও টাকার দাবিতে মেয়ের উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হত।
দীপিকার বাবার অভিযোগ, “বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই মেয়ের উপর চাপ বাড়তে থাকে।
রবিবার সকালে ফোন করে সে নির্যাতনের কথা জানায়। বিকেলে আত্মীয়দের নিয়ে ওদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। কিন্তু মাঝরাতে ফোন করে জানানো হয়, আমার মেয়ে ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছে।”
পরিবারের দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত খুন। মৃতার বাবার কথায়, “মেয়ের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
নাক ও কান থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। ওকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দীপিকার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেন্ট্রাল নয়ডার ডিসিপি শৈলেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বহু দশক ধরে দেশজুড়ে যৌতুকজনিত নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা যখন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তখন দীপিকার মৃত্যু ফের সামনে এনে দিল পণের অভিশাপের নির্মম বাস্তবতা।