পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হতেই শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক রদবদলের পথে হাঁটল প্রশাসন। এবার সরাসরি জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় এল বাংলা। সোমবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতি পড়ুয়াদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, মেধাবী পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তার জন্য ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ চালুর বড় ঘোষণাও করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের নবগঠিত সরকার ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করে তুলতে প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি স্কুলকে ‘পিএম শ্রী’ প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে স্মার্ট বিদ্যালয়, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরি তৈরি করা হবে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, রাজ্যের ৯০ শতাংশ সাধারণ মানুষ সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হলেও, অসম প্রতিযোগিতায় বেসরকারি স্কুলগুলির তুলনায় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে। তাই সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো ও গুণগত মানোন্নয়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার।আরও পড়ুন:
রাজ্যে গজিয়ে ওঠা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উদ্দেশ্যেও এদিন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বেসরকারি স্কুলগুলিকে সরকার উৎসাহিত করলেও, তাদের মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালানোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত করার ডাক দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে স্বশাসন দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সরকার অগ্রাধিকার দেবে। স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পর্যাপ্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষাদানের পরিবেশ গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।আরও পড়ুন:
এদিন রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় ঘোষণাটি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আজ থেকেই রাজ্যে স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ চালু হচ্ছে।
এই স্কলারশিপ প্রদানের ক্ষেত্রে ধর্ম নয়, বরং পড়ুয়াদের মেধা এবং আর্থিক অবস্থাকেই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে ধরা হবে। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, রাজ্যে আর কোনও ধর্মীয় ভাতা দেওয়া হবে না। সমস্ত ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে সেই অর্থে বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পড়ুয়াদের সরাসরি শিক্ষা দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। এদিনের এই বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, সিনিয়র আইএএস আধিকারিক সুব্রত গুপ্ত, স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক পি.বি. সেলিম সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নতুন সরকারের এই দৃঢ় পদক্ষেপ রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।