পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় পৌঁছেছিলেন অশোক কীর্তনিয়া। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তাঁকে খাদ্যদপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী হওয়ার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লালবাতিযুক্ত গাড়ি পেলেও সেই সুবিধা নিতে নারাজ তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পরই নিজের গাড়ি থেকে লালবাতি খুলে ফেলার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এই বিষয়ে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তাই ভবিষ্যতেও মানুষের সঙ্গে মিশেই কাজ করতে চান।
এছাড়াও, সীমান্তে কাঁটাতার বসানো নিয়ে বৈঠক করেন মন্ত্রী।আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর কথায়, ক্ষমতার আলাদা চিহ্ন নিয়ে চলাফেরা করার মধ্যে তিনি বিশ্বাসী নন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও লালবাতি ব্যবহার করেন না, সেই পথ অনুসরণ করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পরিচিত মুখ অশোক কীর্তনিয়া। সাধারণ মানুষের সমস্যা ও দাবি নিয়েই তিনি রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই যোগাযোগ অটুট রাখতে চান বলেই তাঁর দাবি।
এর পাশাপাশি তিনি নাগরিকত্ব এবং সরকারি পরিষেবা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, যেসব উদ্বাস্তু মতুয়া নাগরিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁরা নাগরিকত্ব আইনের আওতায় আবেদন করলে দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সমস্ত সরকারি পরিষেবাও তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিদেশি নাগরিকদের নামে যদি কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা চালু থাকে, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিলের জন্য খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। রবিবার সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন খাদ্যমন্ত্রী।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে জমির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান। সেই কারণে জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে এলাকার বাসিন্দারাও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। কোন কোন এলাকা দিয়ে কাঁটাতার যাবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেলে জমি দিতে আপত্তি নেই বলেও অনেক জমির মালিক জানিয়েছেন।