পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ানোর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। এই মূল্যবৃদ্ধিকে "অগ্রহণযোগ্য" আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রকে লেখা এক চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় তেল সংস্থাগুলির অতি-মুনাফা লোটার মানসিকতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও তার সুবিধা সাধারণ মানুষকে দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “যখন বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েলের দাম কমে, তখন তেল সংস্থাগুলি সেই অনুযায়ী পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমায় না।
পরিবর্তে, তারা পুরো মুনাফা নিজেদের পকেটে পুরে নেয়। আর পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই পেট্রোপণ্যের দাম এইভাবে বাড়িয়ে দেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”আরও পড়ুন:
জ্বালানির এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর কী ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে, চিঠিতে তার খতিয়ান দিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, এই বৃদ্ধির ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার, বিশেষ করে বাইক ও স্কুটার চালকদের মাসিক খরচ একধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে। যেসব ক্যাব চালকরা গাড়ির লোন শোধ করছেন, তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।
পেট্রোপণ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি বাজারে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে বড়সড় মন্দার মুখোমুখি হচ্ছে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের এই আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে সমর্থন করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি। কেন্দ্রের পক্ষে সাফাই দিয়ে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আমদানি খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহণ রুট ‘স্ট্রেইট অফ হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালীতে নানাবিধ বিধি-নিষেধের ফলেই এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। এদিকে পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।