পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মুখে অবশেষে দায় স্বীকার করল কেন্দ্র সরকার। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে ‘চেইন অফ কমান্ড’ বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলে ত্রুটির কারণেই এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকার তাঁর দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাবে না বলেও এদিন তিনি আশ্বস্ত করেন।

প্রশ্নফাঁসের কলঙ্ক মুছতে এবং পরীক্ষাপদ্ধতিকে নিশ্ছিদ্র করতে আগামী বছর থেকে নিট-ইউজি পরীক্ষায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৭ সাল থেকে এই পরীক্ষা আর কাগজ-কলমে বা ওএমআর (OMR) শিটে হবে না।

পরিবর্তে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা নেওয়া হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে বা কম্পিউটার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “পরীক্ষাপদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমানে কী ভাবে এই নতুন পদ্ধতি কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।”

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার বেশকিছু পদক্ষেপের কথা ভাবছে, সেগুলি হলো— সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা, উত্তরপত্র বদল বা কারচুপির সুযোগ বন্ধ করতে ওএমআর পদ্ধতি তুলে দেওয়া, প্রশ্নপত্রের সুরক্ষায় ডিজিটাল এনক্রিপশন ও বহুস্তরীয় সিকিউরিটি ও আধার ও বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাইকরণে আরও কড়াকড়ি। 

২০২৬-এর নিট বাতিল হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক হয়।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশী, এনটিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং এবং সিবিএসই চেয়ারম্যান রাহুল সিং-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করা সরকারের নীতি নয়। আগামী দিনে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে পরীক্ষা পরিচালনা করাই এখন কেন্দ্রের প্রধান অগ্রাধিকার।