পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায়ের সূচনা হলো। বৃহস্পতিবার প্রবল হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধনী সংক্রান্ত তিনটি বিল পেশ করল মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিলগুলো পেশ করেন। বিলের খসড়া অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলো এই বিলকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে। ডিএমকে সাংসদরা এদিন সংসদ ভবনে কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ জানান। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন রাজ্যের মাটিতে এই বিলের প্রতিলিপি পুড়িয়ে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল প্রশ্ন তোলেন, “আগে যখন বিলটি পাস হলো, তখন কেন এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়নি? এটি দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমানোর এক কুটিল ছক।”
বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, বিল পেশের সময় বিরোধীরা কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, গুণাগুণ নিয়ে নয়। তিনি সাফ বলেন, “সরকার বিতর্কের সময় প্রতিটি প্রশ্নের কড়া জবাব দেবে।” বিরোধীরা সাফ জানিয়েছে, তারা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী নয়, কিন্তু আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে উত্তর বনাম দক্ষিণ ভারতের যে বৈষম্য তৈরির চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে তারা একজোট হয়ে ভোট দেবে। যেহেতু এটি একটি সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই এটি পাস করতে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।