ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর রাষ্ট্রীয় জানাজা আয়োজনকে কেন্দ্র করে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে দেশটির প্রশাসন। তবে এই বৃহৎ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনির জানাজা ও স্মরণসভা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, পরিবহন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সমন্বিত প্রস্তুতি চলছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়বে এবং লাখো মানুষ এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অংশ নেবেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই ইরানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এদিকে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন বারবার পিছিয়ে যায়। এর আগে তেহরানে তাঁর স্মরণে সীমিত পরিসরে একটি শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি সূত্রের দাবি, অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করছে। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ফলে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা আয়োজনকে ঘিরেও নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।