তীব্র দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি এলেও কালবৈশাখীর ভয়াবহ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল দেশের একাধিক রাজ্য। শুক্রবার ঝড়, বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির জেরে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশ-এ অন্তত ২০ জন এবং বিহার-এ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়-বৃষ্টির প্রকোপে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন।
ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে, ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। রেললাইনের উপর গাছ ও খুঁটি ভেঙে পড়ায় ট্রেন চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
আরও পড়ুন:
দুর্যোগের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উত্তরপ্রদেশ-এর বুন্দেলখণ্ড ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে। উত্তর-পূর্ব রেলের বারাণসী ডিভিশনের চৌরিচৌরা ও গৌরী বাজার স্টেশনের মাঝখানে রেললাইনের উপর একাধিক গাছ ভেঙে পড়ে। এর ফলে গোরক্ষপুর ক্যান্টনমেন্ট ও দেওরিয়ার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বহু ট্রেন মাঝপথে দাঁড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া ওরাই ও ভুয়া স্টেশনের মাঝে ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ঝাঁসি-লখনউ রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
বিহার-এও ঝড়-বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম চম্পারণ জেলায় গণ্ডক নদী-র জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পুঁঝা ঘাটের কাছে একটি পন্টুন সেতুর সংযোগকারী রাস্তা জলের তলায় তলিয়ে গেছে।অন্যদিকে, কোডারমা সেকশনে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে পাটনা বিমানবন্দর-এ একাধিক বিমানের রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি উড়ান বিলম্বিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উত্তরাখণ্ড-এর রুদ্রপ্রয়াগ জেলার তুঙ্গনাথ-চোপতা এলাকায় বজ্রপাত ও ঝড়ের জেরে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে আটকে পড়া ৫০ জনেরও বেশি পর্যটককে উদ্ধার করেছে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল। তবে প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা দাবানল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গ-এও কালবৈশাখীর দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ঝড়-বৃষ্টির ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। বিভিন্ন জেলায় গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও জল জমার ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক রাজ্যে ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।