মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়াতেই ফের বন্ধ করে দেওয়া হল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। ইরানের মাটিতে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পরই সব ধরনের জাহাজ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। এর জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট।

প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ফলে এই জলপথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্রের খবর, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করায় দু’টি তেলবাহী ট্যাংকারের উপর হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। এর ফলে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৪৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর মূল্য ২.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯২.৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং তার জেরে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এর প্রভাব বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও পণ্যমূল্যেও পড়তে পারে।