পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের জেরে আটকা পড়া হাজার হাজার নাবিক এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নাবিক সহায়তা সংস্থা ও হেল্পলাইনগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে তারা এই অঞ্চলে আটকে থাকা ক্রুদের কাছ থেকে হাজার হাজার সাহায্য প্রার্থনার বার্তা পেয়েছে। অধিকাংশ নাবিকই জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরা, বকেয়া বেতন এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন হামলার পর থেকে এই অঞ্চলে উত্তেজনা তুঙ্গে। আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (ITF) জানিয়েছে, সেই থেকে এ পর্যন্ত তারা অন্তত ১,০০০টিরও বেশি ইমেল ও বার্তা পেয়েছে।

গত ২৪ মার্চ একজন নাবিক আইটিএফ-কে লেখা এক জরুরি বার্তায় বলেন, "আমাদের জাহাজে খাবার, পানীয় জল এবং মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রুদের স্বাস্থ্যগত অবস্থাও শোচনীয়। আমাদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত রসদ সরবরাহ প্রয়োজন।" আইটিএফ-এর আরব বিশ্ব ও ইরান বিষয়ক সমন্বয়ক মোহাম্মদ আরাচেদি জানান, রাত দু’টো বা তিনটের সময়ও আতঙ্কিত নাবিকদের ফোন আসছে। অনেক নাবিক কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছেন, "আমাদের এখানে বোমা হামলা হচ্ছে।
আমরা মরতে চাই না। স্যার, দয়া করে আমাদের বাঁচান।"
 
জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২০,০০০ নাবিক ও বন্দর শ্রমিক এই বিপজ্জনক অঞ্চলে আটকে আছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে চলা বিভিন্ন সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল বার্গেইনিং ফোরাম এই অঞ্চলটিকে 'যুদ্ধ অঞ্চল' হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এই ঘোষণা অনুযায়ী, নাবিকদের দ্বিগুণ বেতন পাওয়ার কথা এবং তারা চাইলে কোম্পানির খরচে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আইনি অধিকার রাখেন। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
 
অভিযোগ উঠেছে, অনেক জাহাজ মালিক ও অপারেটর নাবিকদের বাড়ি ফেরার অনুরোধ উপেক্ষা করছেন। জীবন ঝুঁকির মুখে থাকলেও তাদের জোরপূর্বক কার্গো খালাস এবং শিপ-টু-শিপ (STS) অপারেশনে বাধ্য করা হচ্ছে। নথিপত্রে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ শতাংশ নাবিক তাদের প্রাপ্য বেতন নিয়ে চিন্তিত। অনেকে দৈনিক মাত্র ১৬ ডলারের বিনিময়ে মৃত্যুকূপের মধ্যে কাজ করছেন।