পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর ও রহস্যময় স্থাপনাগুলোর অন্যতম গ্রেট পিরামিড অফ গিজা। প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বছর আগে নির্মিত এই বিশাল পিরামিড অসংখ্য ভূমিকম্প, ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরও আজও প্রায় অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই কীভাবে এত শক্তিশালী স্থাপনা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। এবার সেই রহস্যের কিছুটা উন্মোচন হয়েছে।

গবেষকদের মতে, পিরামিড নির্মাণের সময় প্রথমেই অত্যন্ত শক্ত চুনাপাথরের ভিত্তি নির্বাচন করা হয়েছিল।

এরপর এমনভাবে এর জ্যামিতিক নকশা তৈরি করা হয়, যাতে ওপরের চাপ পুরো কাঠামোয় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কোনো একটি অংশে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় না এবং স্থাপনাটি দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পিরামিডের ভেতরে রাজার সমাধিকক্ষের ওপরে কয়েকটি বিশেষ ফাঁকা কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ফাঁকা জায়গাগুলো ভূমিকম্পের ধাক্কা শোষণ করে মূল কাঠামোকে রক্ষা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় কম্পনের তরঙ্গ ওপরে উঠতে উঠতে রাজার কক্ষে সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়।

কিন্তু তার ওপরে থাকা পাঁচটি ফাঁকা কক্ষে পৌঁছানোর পর সেই কম্পন আচমকাই অনেকটা কমে যায়। এতে স্পষ্ট হয়েছে, প্রাচীন মিসরীয় প্রকৌশলীরা বিশেষ কৌশলে এই অংশগুলো তৈরি করেছিলেন।

মিসরের ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকসের গবেষকেরা পিরামিডের ভেতরের বিভিন্ন কক্ষ, পাথরের ব্লক এবং আশপাশের মাটি থেকে মোট ৩৭টি স্থানে কম্পনের তথ্য সংগ্রহ করেন। তাঁদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে।

গবেষকদের বক্তব্য, পিরামিডের ভেতরের কম্পন এবং বাইরের মাটির কম্পনের গতি এক নয়। ফলে ভূমিকম্পের ক্ষতিকর শক্তি পুরোপুরি মূল কাঠামোয় প্রবেশ করতে পারে না। এই কারণেই হাজার হাজার বছর পরও গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর অন্যতম টেকসই স্থাপনা হিসেবে টিকে রয়েছে।