চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফের ইরানের মাটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরে মাইন পেতে প্রস্তুতি নেওয়া দ্রুতগতির নৌযানগুলোকেই লক্ষ্য করে এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন কাতারের রাজধানী দোহায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছে এই হামলা চালানো হয়।

হরমুজ প্রণালীর প্রবেশদ্বারে অবস্থিত হওয়ায় অঞ্চলটি অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বন্দর আব্বাস এলাকায় প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।


বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা চলমান শান্তি আলোচনায় বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে। কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

যদিও পরে তিনি আলোচকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবারের মধ্যেই একটি সমঝোতার আশা প্রকাশ করলেও, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও চুক্তি এখনই চূড়ান্ত হওয়ার অবস্থায় পৌঁছায়নি।


বর্তমানে দুই দেশের আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ সমঝোতা। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল মুক্ত করা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। ফলে তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় আলোচনা প্রক্রিয়াও ধীরগতির হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান-ইসরায়েল সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড়সড় অস্থিরতা দেখা দেয়। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, নতুন এই হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।