পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা থামছেই না। দুদিন আগেই জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছেন তিনি। আর এবার এর মধ্যেই মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন কাকলি। তাহলে কি এবার তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন? এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। শুধু তাই নয়, ওই বৈঠকে ছিলেন ৩ তৃণমূল বিধায়কও।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক হয়।
সেখানে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি ওই তিন জেলার সাংসদ ও বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুধু কাকলি নন, উত্তর ২৪ পরগনার আরও কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কও ওই বৈঠকে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আব্দুল মতিন। তাঁদের উপস্থিতি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।আরও পড়ুন:
যদিও এই নিয়ে তৃণমূলের বিধায়কদের বক্তব্য, এতে রাজনৈতিক কোনও বার্তা খোঁজার কারণ নেই। তাঁদের দাবি, এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতেই তাঁরা বৈঠকে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বা অন্য দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি আগে খুব একটা দেখা যেত না। কিন্তু বর্তমানে সেই রীতিতে বদল এসেছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রশাসনিক বৈঠকে সব দলের জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই সিদ্ধান্তেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে এই বৈঠকে।আরও পড়ুন:
তবে সব কিছুর মধ্যেও সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি। কয়েক দিন আগেই তাঁকে সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।
এরপর সামাজিক মাধ্যমে তাঁর করা একটি বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখ করে তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন, তা অনেকেই তাঁর অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেছিলেন। এরপর বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতিকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন।আরও পড়ুন:
যদিও এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় কাকলি জানিয়েছেন, প্রশাসন সবার জন্য। তাঁর এই মন্তব্যের পর জল্পনা আরও কিছুটা বেড়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। এদিকে ওই বৈঠকে দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমানের উপস্থিতিও তৃণমূলের অন্দরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।