পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
২০২০ সালের দাঙ্গার কথিত 'মূল পরিকল্পনাকারী' হওয়ার অভিযোগে উমর খালিদ ও অন্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ) এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।
২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় অভিযুক্ত জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদের জামিনের আবেদন মঙ্গলবার দিল্লির একটি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। আদালত বলেছে, জামিন চাওয়ার কারণগুলো অযৌক্তিক।
অতিরিক্ত দায়রা জজ সমীর বাজপাই তার চাচার চল্লিশ দিনব্যাপী মৃত্যু-পরবর্তী চেহলাম অনুষ্ঠানে যোগদান এবং অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা মায়ের দেখাশোনার জন্য খালিদের ১৫ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদনের শুনানি করছিলেন।তাঁর আদেশে বিচারপতি বলেন, "আদালতের মতে, তার চাচার চেহলাম অনুষ্ঠানে যোগদান করা ততটা জরুরি ছিল না।

অনুষ্ঠানটি যদি আবেদনকারীর নিকটাত্মীয় কোন ব্যক্তির হতো, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতো।" আদালত আরও বলেন, সম্পর্কটি যদি এতটাই ঘনিষ্ঠ হতো, তাহলে খালিদ তার চাচার মৃত্যুর পরপরই এই প্রতিকার চাইতে পারত।
বিচারক বলেন,"সম্পর্কটি যদি এতই ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় হতো, তাহলে আবেদনকারী তার চাচার মৃত্যুর সময়েই মুক্তির আবেদন করতেন, এত দীর্ঘ সময় পর এখন নয়। সুতরাং, আদালত এই কারণটিকে ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করে না। " 
খালিদের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে বিশেষ সরকারি আইনজীবী অনিরুদ্ধ মিশ্র আদালতকে জানান যে, অভিযুক্তের পাঁচ বোন ও বাবা আছেন, যারা অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে তার মাকে সাহায্য করতে পারেন।

মিশ্র বলেন,"অস্ত্রোপচারটি গুরুতর নয়, এটি একটি ছোটখাটো অস্ত্রোপচার, যাতে শুধু স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়। সেই কারণে, অভিযুক্তের তার মায়ের সেবা করার কোন প্রয়োজন নেই। " 
রাষ্ট্রপক্ষের দাখিলকৃত বক্তব্য আমলে নিয়ে আদালত বলেন, খালিদ নিজেই জানিয়েছেন যে তার পাঁচ বোন রয়েছে এবং তার বাবাও মায়ের দেখাশোনার জন্য আছেন।
খালিদের জামিন নামঞ্জুর করার সময় আদালত বলে, "এছাড়াও, রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারটি খুবই সাধারণ, অর্থাৎ শুধু পিণ্ডগুলো অপসারণের জন্য, এবং এক্ষেত্রে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে কোন প্রকৃত সাহায্যের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।"
২০২২ সালের ২৪শে মার্চ আদালত খালিদের প্রথম নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়, যার পরে একই বছরের ১৮ই অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্ট সেই আদেশের বিরুদ্ধে তার আপিল প্রত্যাখ্যান করে।
বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের একটি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে কর্মী শারজিল ইমাম, খালিদ সাইফি এবং আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেনসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই মামলাটি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল তদন্ত করছে।