পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর সদ্য গঠিত ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে) তথা অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ‘যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের রাজ্যে যেকোনো মুহূর্তে আগাম বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ‘প্রস্তুত থাকার’ নির্দেশ দিয়েছেন।

বর্তমানে ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয়ের দল টিভিরকের নিজস্ব আসন সংখ্যা ১০৭। জোটসঙ্গী কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক এবং ডিএমকে-র চার সহযোগী দলের সমর্থনে বর্তমানে ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রেখেছেন বিজয়। এছাড়া গত সপ্তাহে বিধানসভায় হওয়া আস্থা ভোটে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগাম-এর ২৫ জন বিদ্রোহী বিধায়কও বিজয় সরকারের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

ডিএমকে সূত্রের দাবি, এই সরকারের স্থায়িত্ব অনেকটাই নড়বড়ে। প্রথমত, বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়া সহযোগী দলগুলি যদি যেকোনো মুহূর্তে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়, তবে সরকার সংকটে পড়বে। 

দ্বিতীয়ত, স্পিকার বা আদালত যদি শেষ পর্যন্ত এআইএডিএমকে-র সেই ২৫ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে দলত্যাগ বিরোধী আইনে বরখাস্ত করে, তবে বিজয় সরকার তৎক্ষণাৎ সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। ডিএমকে-র জেলা সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে স্ট্যালিন বলেন, “বর্তমান শাসনব্যবস্থা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। তৈরি থাকুন।

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সাথেই তামিলনাড়ুতে পুনরায় বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াব এবং জয়ী হব।” 

অতীতেও ডিএমকে কীভাবে নির্বাচনী বিপর্যয় কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে কামব্যাক করেছে, সেই ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন স্ট্যালিন। সোমবার ক্যাডারদের উদ্দেশে তিনি প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “তামিলনাড়ুর বুক থেকে উদীয়মান সূর্য (ডিএমকের প্রতীক) কখনই অস্ত যাবে না।” নির্বাচনে দলের নজিরবিহীন পরাজয়ের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন স্ট্যালিন। এমনকি নিজের দীর্ঘদিনের চেনা কেন্দ্র কোলাথুর-এও পরাজিত হয়েছেন এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই ব্যর্থতার জবাবদিহিতা এবং সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি মাথা পেতে নিচ্ছি।”