পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন হয়নি। এরমধ্যে রয়েছে হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা। যারফলে সেখানে নির্বাচনের দাবি উঠছে। পূর্বের সরকার থাকাকালীন সেখানে নির্বাচন করানো সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই এই পুরসভাগুলিতে নির্বাচন করাতে উদ্যোগী হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত পুরভোটের প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সেই সময়েই বহুদিন ধরে আটকে থাকা আরও কয়েকটি পুরসভাতেও ভোট করানোর পরিকল্পনা নতুন রাজ্য সরকার। তবে তার আগে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।আরও পড়ুন:
সাধারণত পুরসভাগুলিতে ভোট করিয়ে থাকে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে এই কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ দায়িত্ব ছাড়ার পর এখনও নতুন কমিশনার নিয়োগ হয়নি। শুধু তাই নয়, কমিশনের সচিব পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। অবসর নেওয়ার পর নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্যের জায়গায় এখনও কাউকে বসানো হয়নি।
এমনকি যুগ্ম সচিব স্তরের আধিকারিকও বর্তমানে কমিশনে নেই বলে প্রশাসনিক মহলে জানা গিয়েছে। এই অবস্থায় আগামী নমাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার নির্বাচন পরিচালনা করা নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড নেই। সেখানে পুর পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসকের মাধ্যমে। ফলে ঠিকমতো পরিষেবা না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন অনেক মানুষ। এরমধ্যে অন্যতম হল হাওড়া পুরসভা। আইনি জটিলতার কারণে সেখানে টানা ১৩ বছর ধরে ভোট হয়নি।
জানা গিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, হাওড়া পুরসভার নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কথা হয়েছে এবং খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য পুরসভার ভোট নিয়েও শীঘ্রই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। হাওড়া ছাড়াও যেসব পুরসভায় দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি, তার মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি, বালি এবং ধুপগুড়ি পুরসভা। জানা যাচ্ছে, এই সমস্ত পুরসভাগুলির অধিকাংশের শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। প্রশাসনের মতে, ভোট হওয়ার জন্য আগে কমিশনের শূন্যপদ পুরণ করা দরকার। উল্লেখ্য, রাজ্যের বাকি ১১২টি পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আগামী বছরের শুরুতেই সেই বোর্ডগুলির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ফলে আটকে থাকা ১৫টি পুরসভাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী বছরের গোড়ায় বৃহত্তর পুরভোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ।