পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ চোরেরদের নিশানায় কংগ্রেসের কার্যালয়। তবে সেখানে চোরেরা যা চুরি করে পালাল এবং যে কাণ্ড করল তাতে হতবাক পুলিশ। সেখান থেকে দামি জিনিসপত্র বা অর্থ চুরি নয়, কয়েক ডজল কল চুরি করে পালাল চোরেরা। শুধু তাই চুরি করার "লাভ ইউ" লিখে নিঃশব্দে পালিয়ে গেল তারা। এমনই ঘটনা ঘটেছে ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর শহরের কংগ্রেস কার্যালয়ে।
চোরেদের এমন কীর্তি দেখে রীতিমতো হতবাক হয়েছেন পুলিশ থেকে শুরু করে কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই ধরনের ঘটনা ঘটল বলে খবর।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, সেখান থেকে কয়েক ডজন স্টিলের কল চুরি করার পর, চোরেরা মেঝেতে জমে থাকা ধুলোর ওপর "লাভ ইউ’ চিরকুট" রেখে নিঃশব্দে হেঁটে চলে যায়। শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত অম্বিকাপুরের গান্ধী চক এলাকার রাজীব ভবনে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাটি পুলিশ এবং কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। কংগ্রেস নেতাদের কথায়, শুক্রবার মধ্যরাতে অজ্ঞাতপরিচয় চোরেরা দলীয় কার্যালয়ে হানা দিয়ে প্রায় ৭২ থেকে ৭৩টি স্টিলের কল এবং বাথরুমের অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে গেছে।
ভবনটির ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, শৌচাগারের দেওয়াল থেকে ঝুলছে ভাঙা বেসিন, নষ্ট ফ্লাশ সিস্টেম এবং খালি কলের পাইপ, যা দেখে মনে হচ্ছিল যেন প্লাম্বিং ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু যা সত্যিই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তা হলো চোরেরা পালিয়ে যাওয়ার আগে মেঝেতে ধুলো দিয়ে লেখা একটি বার্তা "আই লাভ ইউ অম্বিকাপুর"। জেলা কংগ্রেস সভাপতি বালকৃষ্ণ পাঠক বলেছেন, রাজীব ভবনে এটি তৃতীয় চুরির ঘটনা। এতে অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠেছে যে, কীভাবে একই দপ্তর বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, অথচ অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দাবি করেন, চোরেরা এতটাই আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করছিল যে দেখে মনে হচ্ছিল ধরা পড়ার বিন্দুমাত্র ভয় তাদের ছিল না।আরও পড়ুন:
তিনি আরও জানান, যেভাবে কলগুলো সরানো হয়েছে, দেখে মনে হচ্ছে যেন ওদের হাতে অফুরন্ত সময় ছিল। কংগ্রেস আরও দাবি করেছে যে, একই অফিসে আগে হওয়া চুরির ঘটনায় দায়ের করা এফআইআরগুলো এখন পর্যন্ত কোনো বড় অগ্রগতি আনতে পারেনি। কংগ্রেস নেতা মাদকাসক্ত বা সমাজবিরোধীদের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য প্রশাসনকে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, ফেলে যাওয়া "লাভ ইউ" লেখাটি পুলিশ ব্যবস্থার প্রতি প্রকাশ্য উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা এখন জানা যায়নি।