পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ দলের অন্দরে অসন্তোষ, কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বড়তেই অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস। সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাত শিবির। এছাড়াও, হাবড়া আসনেও নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কংগ্রেস জানিয়েছে, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, মিনাখাঁ, রায়না, মন্দিরবাজার, কেতুগ্রাম এবং আউশগ্রাম-এই সাতটি কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, স্থানীয় স্তরে প্রবল আপত্তি ও কর্মীদের বিক্ষোভের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, মন্দিরবাজারে প্রথমে কৌশিক বৈদ্যকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু এলাকায় দেওয়াল লিখনে দেখা যায় অন্য নাম-চাঁদ সর্দার। পরে কৌশিক বৈদ্য বি-ফর্ম নিতে কলকাতার বিধান ভবনে গেলে স্থানীয় নেতৃত্বের আপত্তির মুখে তাঁকে সেই ফর্ম দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই কেন্দ্র থেকে চাঁদ সর্দারকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী করা হয়েছে। নাকাশিপাড়া কেন্দ্রেও পরিবর্তন এসেছে। সেখানে প্রথমে গোলাম কিবরিয়া মণ্ডলের নাম ঘোষণা করা হলেও পরে তাঁর বদলে প্রার্থী করা হয়েছে তাহির শেখকে। চাপড়া আসনে রহিদুল মণ্ডলের জায়গায় দল নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে আসিফ খানকে। মিনাখাঁ কেন্দ্রেও প্রার্থী বদল হয়েছে। আগে ঘোষিত বর্ণালী নস্করের পরিবর্তে এবার সেখানে লড়বেন সুনয়না বিশ্বাস। রায়না কেন্দ্রে অনীক সাহার বদলে প্রার্থী করা হয়েছে পম্পা মালিককে।আরও পড়ুন:
কেতুগ্রামে মফিরুল কাশেমের পরিবর্তে নতুন প্রার্থী হয়েছেন শেখ আবু বকর। একইভাবে আউশগ্রামেও পরিবর্তন এসেছে। সেখানে নিশা বড়ালের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে তাপস বড়ালকে। অন্যদিকে হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা এতদিন বাকি ছিল। অবশেষে সেখানে প্রণব ভট্টাচার্যকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে কংগ্রেস।
যদিও এই নাম ঘোষণার পরেও দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্তরে অরিজিৎ ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করার দাবি উঠেছিল বলে জানা গেছে।আরও পড়ুন:
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর একাধিক জায়গায় কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত না নিয়েই বাইরে থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় দলের সদর দপ্তর বিধান ভবনের সামনেও বিক্ষোভ হয়। সেখানে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে, যার ফলে এক কর্মীর মাথা ফেটে যায় বলে জানা গেছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের ভেতরের এই অশান্তি ও চাপের ফলেই শেষ পর্যন্ত একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।