পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমতেই আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই তেলের দামে বড় পতন দেখা গিয়েছে। দীর্ঘদিন পর ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের নীচে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণ হয়, ফলে সেখানে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা থাকে। বাজারের হিসাব বলছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৩-১৫ শতাংশ কমে ৯৪ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৯৬ ডলারের আশেপাশে লেনদেন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একদিনে এত বড় পতন খুব কমই দেখা গিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।আরও পড়ুন:
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল।
সেই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক জায়গায় ব্যারেল প্রতি দাম ১১০-১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে জ্বালানির খরচ বাড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাজারে আশার সঞ্চার করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়েছে বলা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখনও পুরোপুরি মেটেনি। তাই ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে তেলের দাম আবারও ওঠানামা করতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও ভারতের মতো দেশে পেট্রল-ডিজেলের খুচরো দামে তৎক্ষণাৎ তার প্রভাব পড়েনি। বিভিন্ন শহরে জ্বালানির দাম আপাতত আগের মতোই রয়েছে।