পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ জ্বালানি সংকটের জেরে আচমকায় শহরের বিভিন্ন রুটের অটো ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জেরে যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে অটো ইউনিয়নগুলি চাপের মুখে পড়ে পিছু হঠতে বাধ্য হল। শহরের বিভিন্ন রুটে অটো ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চালকেরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ২ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত যে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, তা কোথাও আংশিক, আবার কোথাও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে আগের ভাড়াই বহাল করা হয়েছে।

সম্প্রতি এক মাসের মধ্যে অটো চালানোর প্রধান জ্বালানি, অর্থাৎ এলপিজির দাম লিটার প্রতি প্রায় ২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অটো চালকদের দৈনন্দিন পরিচালন খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। বাধ্য হয়েই শহরের একাধিক রুটে ভাড়া বৃদ্ধির পথে হেঁটেছিলেন চালকেরা। কিন্তু একলাফে এই বিপুল ভাড়াবৃদ্ধির কারণে নিত্যযাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রোজকার যাতায়াতের পথে চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বচসা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।

এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে রাজনৈতিক দল এবং অটো ইউনিয়নগুলি। তাদের তরফ থেকে পুরনো ভাড়া ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। আর এই চাপের মুখেই রবিবার থেকে বিভিন্ন রুটে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এই ভাড়া কমানোর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা গিয়েছে। যেমন, বেহালা-রাসবিহারী রুটে ভাড়া একধাক্কায় বাড়িয়ে ৩২ টাকা করা হয়েছিল, রবিবার থেকে চালকেরা তা ফের ২৫ টাকায় নামিয়ে এনেছেন।

একই ছবি দেখা গিয়েছে টালিগঞ্জ ফাঁড়ি-বেহালা রুটেও। সেখানে ২৫ টাকার ভাড়া কমিয়ে ফের ২০ টাকা করা হয়েছে। চিংড়িঘাটা এবং সেক্টর ফাইভের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে ভাড়া ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে তা বাতিল করে পুরনো ১৫ টাকা ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। উল্টোডাঙা-সেক্টর ফাইভ রুটে ৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধির পর তা বর্তমানে ফের ৩৫ টাকায় নেমে এসেছে। এছাড়াও গড়িয়া-বারুইপুর এবং সোনারপুর-গড়িয়া রুটেও পুরনো ভাড়াই বহাল করা হয়েছে।

অটো চালকদের একাংশের দাবি, এলপিজি-র বিপুল দাম বৃদ্ধির কারণে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনও বিকল্প পথ খোলা ছিল না। জ্বালানির দাম বাড়লেও তাঁদের আয় বাড়েনি, উলটে পরিবারের খরচ সামলাতে গিয়ে এই আর্থিক ক্ষতি মেনে নেওয়া তাঁদের পক্ষে ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠছিল।