পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে সরকার। ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোরট নীতি কার্যকর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  এই ৩ডি নীতি কার্যকর হতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন জেলায় তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। এবার হোল্ডিং সেন্টারে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার কাজ শুরু হল। মুর্শিদাবাদে হোল্ডিং সেন্টারে তিন সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। মুর্শিদাবাদের লালগোলায় পদ্মাভবনের তিনতলায় এই হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ভবনটি মূলত এলাকার মৎস্যজীবীদের থাকা ও কাজের সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছিল। নিচের তলায় এখনও মৎস্যজীবীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় একটি ব্যাঙ্ক রয়েছে। আর তৃতীয় তলাটি এখন হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভবনের বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে, উপরতলার ঘরে আলো জ্বলছে, চলছে পাখাও। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেখানে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত খাবারও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এক ব্যক্তি জানান,  প্রশাসনের নির্দেশে তিনি প্রতিদিন দু’বেলা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। আপাতত তিনজনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কতদিন তাদের রাখা হবে  সে বিষয়ে তাঁকে এখনও নির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি বলেও তিনি জানান। হোল্ডিং সেন্টারের বাইরে কড়া নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভবনের প্রবেশপথে তালা দেওয়া রয়েছে। বাইরে মোতায়েন রয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
রবিবার রাজ্য প্রশাসনের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃত ব্যক্তিদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় এই ধরনের হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে। সেখানে সন্দেহভাজনদের সর্বাধিক ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে। শুধু নতুন করে ধৃত ব্যক্তিরাই নন, যাঁদের বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদেরও এই কেন্দ্রগুলিতে রাখা যাবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, বীরভূমেও একই ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানেও একটি নির্দিষ্ট ভবনে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হয়েছে বলে খবর। ফলে এটা স্পষ্ যে  রাজ্যের একাধিক জেলায় একইসঙ্গে এই নীতি কার্যকর করার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।